“তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়াতেই মেয়েকে খু’ন আর আমার মুখে অ্যাসি’ড হাম’লার পরিকল্পনা হয়েছিল” বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফো’রক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি! ফের উঠল তৃণমূল সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহা*রের অভিযোগ!

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে। এক সময় তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকা বৈশাখী এবার সরাসরি দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর মেয়েকেও টার্গেট করা হয়েছিল। এমনকি মেয়েকে খুন এবং তাঁর মুখে অ্যাসিড হামলার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর অবশেষে সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনতেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ঘটনাটি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের। সেই সময় তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ আসে। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে তিনি জানতে চান, কে এই বার্তা পাঠিয়েছেন। বৈশাখীর কথায়, এরপর ওপাশ থেকে জানানো হয়, একজন নারী নিরাপত্তারক্ষীকে মোটা টাকার বিনিময়ে তাঁর মেয়েকে খুন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বৈশাখীর মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারার পরিকল্পনাও নাকি করা হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভুয়ো ধর্ষণের মামলা দায়ের করার জন্যও অর্থ লেনদেন হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বৈশাখীর দাবি, এই পুরো চক্রান্তের পিছনে তৎকালীন শাসকদলের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতার হাত ছিল।

এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে তিনি তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হন বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর ১৪ অগস্ট অভিযুক্ত যুবককে তাঁদের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে এক আইপিএস অফিসারের সামনেই ওই যুবক নাকি স্বীকার করে, কীভাবে টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং কত কিস্তিতে পুরো পরিকল্পনার জন্য অর্থ পৌঁছেছিল। কিন্তু এত বড় স্বীকারোক্তির পরও পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ বৈশাখীর। তাঁর কথায়, তদন্ত এগোনোর বদলে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। পরে তিনি জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখানেও প্রত্যাশিত সাহায্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি। বৈশাখীর অভিযোগ, তৎকালীন এক আইপিএস অফিসার পুরো ঘটনাটিকে ‘ফিগমেন্ট অফ ইমাজিনেশন’ বা কাল্পনিক গল্প বলে রিপোর্ট জমা দেন। যদিও বর্তমানে কিছু আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হওয়ায় তিনি আবার সেই সময়কার ভিডিও ও নথি কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জন্মদিনে শুধুই পরিবার আর কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়

শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগেই থেমে থাকেননি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তাঁর মতে, ক্ষমতার অহংকার ও দম্ভই দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বৈশাখীর বক্তব্য, দলে শুধু একজন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন না, আরও অনেক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন যাঁদের ‘পৈশাচিক চেহারা’ সাধারণ মানুষ এখন চিনে ফেলেছেন। কারও নাম সরাসরি না করলেও তিনি বলেন, দলে অনেক ‘চট্টোপাধ্যায়’, ‘মুখার্জি’, ‘বিশ্বাস’ এবং ‘হাকিম’ রয়েছেন, যাঁদের আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও সরাসরি নিশানা করেন বৈশাখী। তাঁর অভিযোগ, একসময় তাঁকে কলেজ থেকে ‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে সময় বদলেছে বলেই দাবি তাঁর। বৈশাখীর কথায়, আজ মানুষই অনেক জায়গায় সেই রাজনৈতিক শক্তিকে ‘উপড়ে ফেলেছে’। দীর্ঘদিন ধরে নানা চাপ, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এখন তিনি মনে করছেন, ধীরে ধীরে নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিচয় ফিরে পাচ্ছেন। এতদিন তিনি যেন নিজের মতো করে বাঁচতেই ভুলে গিয়েছিলেন। এখন মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন বলেই আশাবাদী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই বিস্ফোরক অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও অন্যান্য খবর