রাজনৈতিক জনসভা মানেই ভিড়, উত্তেজনা আর নিরাপত্তার কড়াকড়ি এই ছবিই সাধারণত দেখা যায়। কিন্তু সেই পরিচিত ছবির মাঝেই হঠাৎ যদি ঢুকে পড়ে অচেনা কোনও ‘রহস্য’, তাহলে পরিস্থিতি মুহূর্তে বদলে যেতে বাধ্য। ঠিক তেমনই এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদার একটি জনসভা, যেখানে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হল চাঞ্চল্য।
শনিবার দুপুরে মালদার মালতিপুরে নির্বাচনী জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারের দিকে এগোচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষে স্বাভাবিক নিয়মেই তিনি হেলিপ্যাডে পৌঁছে পরবর্তী গন্তব্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময়েই হঠাৎ তাঁর নজরে আসে একটি ড্রোন, যা কপ্টারের ঠিক উপরে ঘুরপাক খাচ্ছিল। অপ্রত্যাশিত এই দৃশ্য দেখে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত, তারপরই স্পষ্টভাবে বিরক্ত হন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ড্রোনটি দেখতে পেতেই তিনি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, এই ড্রোন কেন ওড়ানো হচ্ছে? কে এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে? মাইক হাতে নিয়েই তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন এবং বলেন, এই বিষয়টি পুলিশকে খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁর এই প্রতিক্রিয়ার পরেই সভাস্থলে একপ্রকার হুলস্থূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন।
ঘটনার পরপরই ড্রোনটির উৎস নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ড্রোনটি নাকি একটি নির্বাচনী প্রচার সংস্থার পক্ষ থেকে ওড়ানো হয়েছিল। যদিও প্রথম মুহূর্তে বিষয়টি পরিষ্কার না থাকায় তা ঘিরে তৈরি হয় বিভ্রান্তি ও সন্দেহ। পরে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ড্রোনটি নামিয়ে নেওয়া হয়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায় এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটে?
আরও পড়ুনঃ সরকারি পদে থেকেও কি রাজনৈতিক আনুগত্য? খণ্ডঘোষ বি*তর্ক ও রানাঘাট হাম*লার জেরে কড়া কমিশন, সাসপেন্ড দুই আধিকারিক! নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন!
প্রায় ৩৪ মিনিটের ভাষণ শেষ করে হেলিপ্যাডে যাওয়ার সময় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সবকিছু স্বাভাবিক করেই শেষ পর্যন্ত গাজোলের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু মালতিপুরের সেই মুহূর্ত একটি ‘রহস্যময়’ ড্রোন এখনও ঘুরছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই।





