দু-মাসের ব্যবধানে শুভেন্দু-রাজীবের পদত্যাগ যে তৃণমূলের তরীকে যথেষ্ট নাড়িয়ে দিয়ে গেল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাজীববাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো পদত্যাগপত্রে লেখেন, তৃণমূলের হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। অনেক সময় দিয়েছি দলকে। আর আমাকে এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
প্রসঙ্গত, আজ অর্থাৎ শুক্রবার দুপুরেই বিধানসভায় গিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখে কিছু না বললেও এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। আর এতেই খুশির হাওয়া বইছে বিজেপি শিবিরে। বাংলা বিধানসভায় লড়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসীও হয়ে উঠছে গেরুয়া শিবির।
তবে, আজ শুধু রাজীব ব্যানার্জিই নন, হাওড়ার যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অনপুম ঘোষও। হাওড়ায় একের পর এক নেতার ইস্তফায় জেরবার শাসক দল তৃণমূল। এর আগে লক্ষ্মীরতন শুক্লা মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছে। হাওড়ার বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরও অমিত শাহ্’র সভায় বিজেপিতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীও বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কাছে সবথেকে মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাওড়া জেলা। আরেকদিকে, বিজেপির এক নেতা বলেছেন, তৃণমূল থেকে প্রতি ঘণ্টায় একজন করে নেতা পদত্যাগ করবে। দেখুন কি হয়।
অবিকল শুভেন্দু অধিকারীর পথে হেঁটেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির বদল করছেন। অর্থাৎ প্রথমে মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়া, তারপর ধাপে ধাপে বিধায়ক পদ, তৃণমূলের সদস্যপদ-সহ যাবতীয় দায়িত্ব থেকে সরে আসা। আর শেষ পদক্ষেপ হিসেবে শেষমেশ অমিত শাহর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান। আর আপাতত এই শেষ ধাপটিই শুধুমাত্র বাকি।
চন্দননগরের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপিতে আসার জন্য আহ্বান করার পরের দিনই রাজীববাবু মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।





