বাংলায় আর বেশিদিন আয়ু নেই বিড়ির, কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে বিড়ি শিল্প, মাথায় হাত রাজ্য সরকারের

Bidi industry is about to close in Bengal: এমন অনেকেই রয়েছেন যারা এই আধুনিক যুগেও সিগারেটের থেকে বেশি বিড়িতে সুখটান দিতে ভালোবাসেন। নানান ব্র্যান্ডের বিড়ি মেলে বাংলায়। এক বড় কুটিরশিল্প এটি। কিন্তু এবার শোনা যাচ্ছে, রাজ্যে আর বেশিদিন আয়ু নেই এই বিড়ির। খুব শীঘ্রই বন্ধ হতে চলেছে এই শিল্প (Bidi industry is about to close in Bengal)

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন সরকারিভাবে কেন্দু পাতার সহায়ক মুক্য বৃদ্ধির কথা। এই সহায়ক মূল্যে কেন্দু পাতা কেনে জঙ্গলমহলের সমবায়গুলি। কিন্তু গত এক দশকে সেই সমবায়গুলিতেই একের পর এক তালা পড়েছে। কেন্দু পাতা সংগ্রহও বন্ধ হয়েছে। এর জেরে অন্য রাজ্য থেকে কেন্দু পাতা আমদানি করে তা দিয়ে বিড়ি শিল্প চালানো অনেকটা খরচ সাপেক্ষ। এর জেরে বিড়ি শিল্পে মন্দা (Bidi industry is about to close in Bengal)

বাঁকুড়ার অন্যতম বড় কুটিরশিল্প হল এই বিড়ি বাঁধার শিল্প। আর এই শিল্পের জন্য অন্যতম কাঁচামাল কেন্দু পাতা। এই কেন্দু পাতা সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন বাঁকুড়ার হাজার হাজার আদিবাসী ও তফশিলি জাতির মানুষ। তারাই কেন্দু পাতা সংগ্রহ করে, তা বাছাই করে সমবায়গুলিতে বিক্রি করতেন। এদিকে সেই সমবায়গুলি সরকারি সাহায্য পেয়ে সেই কেন্দু পাতার গাছ কাটিংয়ের কাজ করত। নিয়মিত গাছ কাটিং হলে ভালমানের পাতা মেলে। সেই পাতা বিড়ির কারখানাগুলিতে পাঠাত সমবায়গুলি।

কিন্তু গত এক দশকে একের পর এক এই সমবায়গুলি বন্ধ হয়েছে। সমবায়গুলিতে পরিচালন সমিতির নির্বাচন না হওয়ায় দেখা দিয়েছে জটিলতা (Bidi industry is about to close in Bengal)। এর উপর আবার কেন্দু গাছ কাটার জন্য সরকার যে অনুদান দিত, তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাটিং না হওয়ার ফলে মিলছে না ভালো মানের পাতা। এর জেরে বন্ধ হয়েছে সমবায়গুলি। এর ফলে বাঁকুড়ার যে হাজার হাজার মানুষ কেন্দু পাতা কেটে বা বিড়ি বেঁধে সংসার চালাতেন, তাদের রুজি রোজগারে পড়েছে টান (Bidi industry is about to close in Bengal)

বিড়ি শিল্পে এমন ধস তৃণমূলের জন্য বড় কাঁটা রো বটেই। কারণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে তোপ দেগেছে বিজেপি। সরকার অনুদান বন্ধ করেছে বলেই গাছের কাটিং বন্ধ (Bidi industry is about to close in Bengal)। এর জেরে বন্ধ পাতা সংগ্রহ ও বিড়ি বাঁধাই। ফলে সাধারণ মানুষের জীবিকা চলে যাওয়ায় তা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।   

এই প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরেই বলেছি রাজ্যের এই তৃণমূল সরকার আদিবাসী বিরোধী। বাঁকুড়ার অন্যতম বড় শিল্প হল বিড়ি বাঁধা সংগ্রহ। এই ব্যপারে রাজ্য এগিয়ে আসেননি। রাজ্য সরকারের কো-অপারিটেভের উপর কোনও নজর নেই। এর ফলে আদিবাসী ভাইদের যথেষ্ঠ কষ্ট হচ্ছে” (Bidi industry is about to close in Bengal)

অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, “ওইগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা চারটে করে সদস্য করে দিয়েছে। আদিবাসীদের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের”।

বিড়ি কারখানার ম্যানেজার অশোক গড়াই জানান, “বিড়ি শিল্প খুবই সঙ্কটে রয়েছে। এর অদূর ভবিষ্যত নেই। পাঁচ-সাত হাজার মানুষ যুক্ত হবে। খুবই শোচনীয় অবস্থা। কারণ বিড়ি ব্যবসা করে আমাদের সংসার চলছে না। কাঁচামালের সংঙ্কট নেই। দাম বেড়ে গিয়েছে। অথচ বিড়ি দাম বাড়েনি” (Bidi industry is about to close in Bengal)

RELATED Articles