পেগাসাস হ্যাক কাণ্ড নিয়ে তৎপর রাজ্য, গঠন তদন্ত কমিশন, থাকছেন দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

পেগাসাস কাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরেই নানান তথ্য উঠে আসছে। দেশের একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। এবার এই পেগাসাস কাণ্ড নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার।

জানা গিয়েছে, গঠিত এই তদন্ত কমিশনে থাকছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এমবি লকুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে জানান যে পশ্চিমবঙ্গে মোবাইল ফোনের অবৈধ ট্র্যাকিং, হ্যাকিং বা রেকর্ডিং নিয়ে এই কমিশন তদন্ত চালাবে।

এই পেগাসাস হ্যাক কাণ্ড নিয়ে সপ্তাহ খানেক ধরেই সাংসদের বাদল অধিবেশন উত্তাল হয়েছে। এরই মধ্যে বিজেপির উপর চাপ বাড়াতে প্রথম রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করল তদন্ত কমিশন।

আরও পড়ুন- ‘মোদীর হাতে-পায়ে ধরতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী’, মমতার দিল্লি সফর প্রসঙ্গে মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

বলে রাখি, গত ১৮ই জুলাই ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’-সহ মোট ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে দাবী করা হয় যে ‘পেগাসাস’ নামের একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছে।

এরপর ‘দ্য ওয়ার’-এর প্রতিবেদনে সোমবার দাবী করা হয় যে, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ফোনেও নাকি আড়ি পাতা হয়েছিল। সম্ভাব্য ফোন নম্বর হ্যাকের নাম ছিল তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও, এমনটাই দাবী করা হয় ওই প্রতিবেদনে। এই নিয়ে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবী এই পেগাসাস ‘হ্যাক’-এর সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। এই বিতর্কের সঙ্গে কেন্দ্র বা বিজেপির নাম জড়ানোর জন্য কোনও প্রমাণ নেই বলেও দাবী করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তরফে জানানো হয়, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের উপর সরকারি নজরদারি চলছে, সেই দাবীর স্বপক্ষে কোনও মজবুত সত্যতা নেই।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এও বলা হয়, “মৌলিক অধিকার হিসেবে বাকস্বাধীনতার প্রতিজ্ঞা হল ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। আমরা সর্বদা খোলামেলা কথোপকথনের সংস্কৃতিতে জোর দিয়ে একটি অবগত নাগরিক সমাজের পক্ষে থেকেছি”।

RELATED Articles