নিরঞ্জনের প্রস্তুতি চলছিল। এলাকার মহিলারা বরণ করছিলেন মাকে। এমন সময় হঠাৎই বরণ করতে করতেই এক মহিলা মাটিতে পড়ে যান। ওই অবস্থাতেই মুখ থেকে অদ্ভুত আওয়াজ করতে থাকেন তিনি। বলতে থাকেন, “আমাকে ভাসান দিস না, আমাকে প্রতিষ্ঠা কর”। একথা শুনে সেখানে উপস্থিত সকলের ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হওয়ার জোগাড়। কী যে হচ্ছে, ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছিলেন প্রথমে সকলে।
এরপর এলাকার লোকজন বলতে শুরু করেন যে ওই মহিলার উপর স্বয়ং মা কালীই ভর করেছেন। মা নিজেই চাইছেন না যে তাঁর ভাসান হোক। আর এই কথা তিনি ওই মহিলার মাধ্যমে সকলকে জানাচ্ছেন। মহিলার থেকে এমন কথা শুনে প্রতিমা নিরঞ্জনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুজো কমিটির সদস্যরা।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ নভেম্বর অর্থাৎ ভাইফোঁটার দিন হাওড়ার ব্যাঁটরার হেম চক্রবর্তী লেনে। এমন ঘটনার পর পুজো কমিটির সদস্যরা জানান, তারা মা কালীর প্রতিমা ভাসান দেবেন না। ক্লাবের পাশেই প্রতিমাকে প্রতিষ্ঠা করার তোড়জোড় শুরু হয়।
এদিকে একটা কাণ্ড যে ঘটেছে তা আশেপাশের এলাকাতেও রটে যায়। আর এরপর থেকেই ওই কালী প্রতিমা দর্শন করতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের মানুষেরা। বর্তমানে ক্লাবের একতলার ঘরে রাখা হয়েছে বিসর্জন না হওয়া কালী ঠাকুরের মূর্তিটি। ক্লাবের পাশেই মন্দির তৈরির তোড়জোড় চলছে পুরোদমে।
এই বিষয়ে ক্লাবের সম্পাদক শুভদীপ দাস জানান, “দেবী তাঁর ইচ্ছার কথা পাড়ারই এক মহিলার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন। এখন তো প্রচুর লোক আমাদের এখানে মা কালীকে দেখতে আসছেন। আমরা শনিবারের মধ্যেই মন্দিরে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করব”।
এই অলৌকিক ঘটনার খবর পেয়ে আসরে নেমে পড়েছে বিজ্ঞান মঞ্চও। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের হাওড়া জেলা শিবপুর চক্রের সম্পাদক দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এলাকার মানুষদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বিষয়টা জেনেনি। কিন্তু আদপে যে এরকম কিছু হয় না তা যুক্তি দিয়ে মানুষদের বোঝানোর চেষ্টা করব”।





