তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর থেকে কোনও নির্বাচনেই জেতেনি বিজেপি। এমনকি, নিজের গড়ও বাঁচাতে পারেন নি তিনি। কিন্তু আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপিকে জেতানোর দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁকেই। এই কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হল সেই শুভেন্দু অধিকারীকে। সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকছেন সাংসদ অর্জুন সিং।
এই কেন্দ্রেই দায়িত্বে থাকছেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী। অন্যদিকে, বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে। তাঁর সঙ্গে থাকছেন সঞ্জয় সিং, সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দিন্দা।
গতকাল, রবিবারই তৃণমূলের তরফে আসানসোল ও বালিগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন বলি অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা আর বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূলে সদ্য যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়কে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। সেই সময় তিনি সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়ার জেরে খালি হয়ে যায় আসানসোলের সাংসদ পদ। আবার কালীপূজার দিন প্রয়াত হন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এর ফলে খালি হয় বালিগঞ্জ কেন্দ্র। ওই দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে শত্রুঘ্ন সিনহা ও বাবুল সুপ্রিয়কে।
আসানসোল কেন্দ্র থেকে প্রার্থীর জন্য চারটি নাম ঠিক করেছে বিজেপি। এরা হলেন- অগ্নিমিত্রা পাল, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, নির্মল কর্মকার ও সুব্রত মিশ্র। কোনও নামেই এখনও সিলমোহর না পড়লেও, নির্মল কর্মকার এই চারজনের মধ্যে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁকে বলা হয় বাবুল সুপ্রিয়কে জেতানোর কারিগর। এই কারণে তাঁর নামই এগিয়ে বাকিদের থেকে।
এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এরা চারজনই গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তবে এই চারটি নামই নয়, আমাদের তালিকায় আরও নাম আছে। খুব শীঘ্রই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সেই নাম পাঠানো হবে”।
আসানসোল আসন ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি। এই কারণে সেই কেন্দ্রে প্রচারে যাতে আরও গতি আসে, তাই এই কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। এর আগেও পুরসভা নির্বাচনের সময় এখানে প্রচার করেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। এবার তাঁর সঙ্গে থাকছেন অর্জুন সিংও।





