বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এরই মধ্যে আবহাওয়া বুঝে ঝাঁকের কই-এর মতো দলবদলে সব বিজেপিতে চলে যাচ্ছে। একপ্রকার লাভ হলেও এতে বিপন্ন বিজেপির আদর্শ। এতদিন যাঁরা গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেন সুবিধাভোগী সেই তাঁরাই এবার গিয়ে ঢুকছেন বিজেপির আশ্রয়ে। প্রশ্নের মুখে পড়ছে বিজেপির ভাবমূর্তি।
দিন কয়েক আগে নাগপুরে একটি বৈঠক হয় আরএসএস-এর। সেই বৈঠক থেকেই বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বার্তা দেন, আদর্শের বাইরে গিয়ে যে কাউকে দলে নেওয়া যাবে না।
প্রসঙ্গত গত কাল দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বঙ্গ নেতৃত্বের বৈঠকে বারবার উঠে আসে এই দলবদল কারীদের প্রসঙ্গ।
সূত্রের খবর, বৈঠকে বাংলায় বিজেপির ভাবমূর্তি রক্ষা ও সেই সঙ্গে কাদের দলে নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৃণমূলের দাপুটে শুভেন্দু অধিকারী-সহ তৃণমূল অনেকেই ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন গেরুয়াশিবিরে। ‘বেসুরো’-দের বাড়বাড়ন্তে অস্বস্তিতে বাড়ছে শাসকদলের অন্দরে। কিন্তু দলের আসতে চাইলেই কি স্বাগত জানানো হবে? এই বিষয়ে শুক্রবার দিল্লি বিজেপি বঙ্গ নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠকে আলোচনা হয়। সেই প্রসঙ্গে উঠে আসে, অন্য দল থেকে অনেক দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাও নিজেদের আখের গোছাতে যোগ দিয়েছেন বা যোগ দিতে চাইছেন। তাতে দলে সাংগঠনিক শক্তি বাড়লেও ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। কীসের ভিত্তিতে নেতা-নেত্রীদের দলের নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভোটের জেতার ক্ষমতার নিরিখে শুধুমাত্র যোগ্য নেতাদের বিধানসভা ভোটে টিকিট দেওয়া হবে। বেশ কয়েকটি জোনে ভাগ করে ইতিমধ্যেই বাংলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বিজেপির ৭ নেতাকে। তাঁরা সকলেই নিজের নিজের এলাকা ঘুরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে রিপোর্ট দিয়েছে। বৈঠকে সেই রিপোর্টের প্রসঙ্গ ওঠে।
চলতি মাসের শেষে অমিত শাহের বাংলার সফরের আগে রাজধানীতে আরও বেশ কয়েকজন গেরুয়াশিবিরে যোগ দিতে পারেন। ফ্রেরুয়ারিতে ফের রাজ্যে আসছেন জেপি নাড্ডা। নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে ২৩শে জানুয়ারি রাজ্যে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও।
সম্প্রতি দু’দিনের বঙ্গ সফর সেরে ফিরে গেছেন উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। আর এবার তাঁর ফিরে যাওয়ার পর বাংলায় আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বলে জানা গেছে। আগামী ২০শে জানুয়ারি, বুধবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা–সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের আসার কথা রয়েছে।





