মুসলিমরাই নাকি মুসলিমদের খুন করছে। যারা মারছে তারাও মুসলিম আর খুন হচ্ছে তাদেরও অধিকাংশই মুসলিম। এমনটাই মন্তব্য করেছিলেন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবার তাঁর সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুসলিমদের নিয়ে তৃণমূল অপরাধমূলক কাজ করাচ্ছে বলে দাবী তুলল বিজেপি।
কী বলেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক?
ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক নিজের দলের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেন নি ঠিকই। তবে তাঁর কথায়, “(মুসলিমরা) বরাবরই অনগ্রসর ছিলেন। এখন একটু উন্নতি হয়েছে। আমাদের যে নতুন সরকার, সেই সরকার এসে অনেক কাজ করছে। তার ফলে অনেকটা উন্নতি হয়েছে”।
হুমায়ুনের দাবী, “এত যে খুনোখুনি হয়, ভোটের সময় বা অন্যান্য সময় মারামারি হয়, যারা খুন করছে, তারা মুসলিম..বেশিরভাগটাই। যারা খুন হচ্ছে, তারাও মুসলিম। পঞ্চায়েত ভোটের সময় যখন প্রায় ৫২-৫৩ মার্ডার হয়েছিল, সেইসময় আমি বলেছিলাম যে মুসলিমরা কেন মার্ডার হচ্ছে? তারা তো দাঁড়াচ্ছে না ভোটে। তারা তো কিছু করছে না। তারাও মার্ডার হয়ে যাচ্ছে”।
কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে? কেন মুসলিমদের মধ্যে এমন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে? সেই প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুসলিমদের ‘অজ্ঞতা’কে দায়ী করেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কথায়, যে কোনও উস্কানির ফাঁদে পড়ে যান মুসলিমরা। ভালো-মন্দ হিতাহিত জ্ঞান নেই তাদের। আর সেই অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবী হুমায়ুন কবীরের।
তৃণমূল বিধায়কের কথায়, “নিজেরাই লেগে পড়েন। কাউকে কি মারামারি করতে বা গুলি করতে কেউ বলেন? নিজেরাই নেমে পড়েন। ছোটো-ছোটো স্বার্থ নিয়ে তাঁরা নেমে পড়েন”।
হুমায়ুন কবীরের সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার পাল্টা তৃণমূলকেই দাগলেন বঙ্গ বিজেপির যুব মোর্চার সহ-সভাপতি তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর কথায়, “মুসলমানদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতার প্রধান কারণ অশিক্ষা, বেকারত্ব এবং অনুন্নয়ন। ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক আজ এই কথা বললেন। কিন্তু এই একই কথা তো আমরা বেশ কয়েকদিন ধরেই বলে আসছি। মুসলমান সমাজকে তৃণমূল শুধুমাত্র ব্যবহার করে। কিন্তু উন্নয়নের কথা ভাবে না। ওঁদেরকে দিয়ে যাবতীয় অপরাধমূলক কাজ করায় তৃণমূল। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে এঁদেরকে শেষ করে দেয় তৃণমূল”।





