রাজ্য

শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়েও বিক্ষোভ’ বিজেপিতে! ঘরোয়া কোন্দল কিভাবে সামলাবে গেরুয়া শিবির? উঠছে প্রশ্ন

তৃণমূলের কোন্দল দেখে বিরূপ মন্তব্য করা বিজেপির নিজের ঘরেই এবার শুরু দলীয় কোন্দল। সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আগতদের প্রার্থী তালিকায় নাম দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বহু পুরোনো বিজেপি সমর্থক, কর্মী। সদর দপ্তর হেস্টিংসের সামনে লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কর্মীরা।

প্রসঙ্গত দফায় দফায় যত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে গেরুয়া নেতৃত্ব, ততই বেড়েছে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের তীব্রতা। সদ্য দলে যোগ দেওয়াদের বাদ দিয়ে উঠেছে ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যেই এবার মূল আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বৃহস্পতিবারের দমদমের ঘটনা। সেখানে রাজারহাট – গোপালপুর কেন্দ্রে দলের প্রার্থী হিসেবে এবার দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেই অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন পদ্ম কর্মী-সমর্থকরা।

দিন কয়েক আগে পাঁচলা, উদয়নারায়ণপুর, রাইদিঘি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হেস্টিংসে দলের দফতরের সামনে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ওই সমস্ত এলাকার পদ্ম শিবিরের কর্মী সমর্থকদের একটা বড় অংশ। এই ক্ষোভের খবর পেয়ে তড়িঘড়ি চলে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্। বঙ্গ নেতৃত্বকে এই ক্ষোভ প্রশমনের নির্দেশ দেন তিনি।

 

আরও পড়ুন- প্রার্থী তালিকা নিয়ে নজিরবিহীন অসন্তোষ! ক্ষোভে শ্যামনগরে নিজেদের দলীয় কার্যালয়ই উপড়ে দিল বিজেপি কর্মীরা

অন্যদিকে বিভিন্ন জেলাতেও শুরু হয় বিক্ষোভ প্রতিবাদ। হুগলির সিঙ্গুর, চন্দননগর, উত্তরপাড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। এরপর বৃহস্পতিবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা পর বিক্ষোভ শুরু হয় পুরোনো মালদা, হরিশ্চন্দ্রপুর, দুর্গাপুর পূর্ব, পান্ডবেশ্বর, জগদ্দলের মতো এলাকায়। প্রায় সব জায়গাতেই সদ্য যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাঁদের টিকিট দেওয়ায় প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

কিন্তু রাজারহাট – গোপালপুর আসনের ক্ষেত্রেও কেন একই ঘটনা ঘটল? ওই আসনে তো দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যকেই প্রার্থী করেছে দল। তাহলে তো ক্ষোভের কোন‌ও কারণ নেই। প্রকাশ্যে অবশ্য প্রার্থী অপছন্দের কারণই দেখাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও শমীকবাবুর বিরোধিতার ক্ষেত্রে সেটাই একমাত্র কারণ কি না তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি এও প্রশ্ন উঠছে যে, নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে ঘরোয়া কোন্দল চলতে থাকলে তা কীভাবে সামাল দেবে বিজেপি?এখানে একটা কথা মনে রাখতে হবে প্রার্থীকে ঘিরে অসন্তোষের জেরে যে শুধু বিক্ষোভই হচ্ছে এমনটা নয়, শুরু হয়েছে দলত্যাগ পর্বও। ইতিমধ্যেই বেহালা পূর্বে টিকিট না পেয়ে বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও দল ছেড়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

 

আরও পড়ুন- হাতজোড় করার বদলে পা দেখিয়ে ভোট চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী, মমতাকে তীব্র তোপ শুভেন্দুর

কিন্তু অপছন্দের প্রার্থী ঘিরে দিকে দিকে অসন্তোষ ও দলত্যাগ যেভাবে বাড়ছে তা ভোটের আগে বিজেপির পক্ষে খুব একটা ভাল বার্তা নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর তার মধ্যে কোনও কোনও কেন্দ্রে যদি সত্যিই বিক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীরা নির্দল প্রার্থী দাঁড় করান তাহলে বিজেপির সঙ্কট যে আরও বাড়বে সেই বিষয়ে কার্যত নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

উল্লেখ্য, হুগলির চন্দননগরে গণ ইস্তফ দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। দল ছেড়েছেন হুগলি জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভানেত্রীও। কোথাও কোথাও প্রাথী পরিবর্তন না হলে প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের আশা, সমস্ত সমস্যাই মিটে যাবে। এক্ষেত্রে দলের রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, যাঁদের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁদেরই টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

এই অবস্থায় কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব তাই এখন দেখার।

Back to top button
%d bloggers like this: