আর হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্তে শুরু হয়ে গেছে গুঞ্জন। অনেকেই বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে বেনজির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে চিহ্নিত করেছেন। কারণ চলতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের কোনও জেলাতেই বিজেপি জেলা সভাপতি ক্ষেত্রে বদল ঘটায়নি। কার্যত ভোটের মাত্র ৯ দিন আগে জেলা সভাপতি বদল সেই জায়গায় প্রায় নজীরবিহীন ঘটনা হয়ে থাকল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত সোমবার বিকালে উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ বিধানসভায় প্রথমবার পা রাখেন অমিত শাহ। সেদিন তিনি জনসভা করেন মহারাজাহাট লাগোয়া ময়দানে। সেই জনসভার সভামঞ্চেও জেলা সভাপতি হিসাবে বিশ্বজিৎ লাহিড়ীকে দেখা গিয়েছিল। এদিন আবারও জেলার ইসলামপুরে রোড শো করতে আসেন তিনি। আর তাঁর জেলায় আগমনের আগেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজেপির জেলা সভাপতি পরিবর্তনের নির্দেশ এসে পৌঁছায় জেলাতে। দলের রাজ্যে নেতৃত্বের পাঠানো এই চিঠিতে বাসুদেব সরকারকে বিজেপির নতুন জেলা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে৷ জেলার রাজনীতিতে বাসুদেব রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত। তার জেরে অনেকেই মনে করছেন দেবশ্রী এবার জেলায় দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতেই এই পরিবর্তন ঘটিয়েছেন বিজেপির ওপরতলায় কথা বলে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মতো বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই গোষ্ঠী কোন্দল শুরু হয়ে গেছিল। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উত্তর দিনাজপুর। জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রেই যাঁদের প্রার্থী করা হয় তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বা পরিচিত হিসাবে চিহ্নিত। আর তাই জেলায় দলের ক্ষমতাসীন শিবির সেই প্রার্থীদের মেনে নিতে পারেনি। জেলাজুড়ে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। যার ঢেউ আছড়ে পড়ে দিল্লিতেও। সেই সময় দেবশ্রীর ছবিতে আগুন দেওয়া থেকে জুতোর মালা পরানো বা তাঁর ছবিতে জুতো পেটানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল। আর তারপর হঠাৎই এই পরিবর্তন। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে ওই বিক্ষোভের পেছনে জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ীর হাত ছিল বলেই মনে করছে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।





