WB Election 2021: বাংলার ভাগ্যে দাদা না দিদি? ভোট গণনা শেষে চুলচেরা বিশ্লেষণে বসছে শাসক ও বিরোধী দুই দল‌ই

আজ বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অষ্টম দফা। আজ‌ই শেষ দিন। বাংলার ভাগ্য গণনা শেষে
বুথ ফেরত রিপোর্ট নিয়ে পর্যালোচনায় বসবে পদ্ম শিবির। আট দফার পর ২৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে কত আসন ঝুলিতে ভরতে চলেছে তাঁরা তা নিশ্চিত করতেই এই রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হবে। কত আসন আসতে পারে রাজ্যের তরফে বুথ ফেরত সমীক্ষার একটা রিপোর্ট শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানোর কথা বঙ্গ বিজেপির। সমস্ত বুথের সভাপতি ও মণ্ডল কমিটি থেকে সমীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট নিয়ে পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।

আরও পড়ুন- বলিউডের মানবিক মুখ, ১০০ অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দান করলেন অক্ষয়-টুইঙ্কেল জুটি!

বিধানসভা নির্বাচনের শুরু থেকেই বাংলা জিততে মরিয়া শাসক-বিরোধী দুই শিবির। বঙ্গ বিজয়কে ঘিরে বেশ আশাবাদী বিজেপি শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতারা শুরু থেকেই জোর গলায় বলে আসছেন

“ইসবার দোশো পার”, অর্থাৎ ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করবে বিজেপি।

বলাবাহুল্য অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বেশি ভালো জায়গায় রয়েছে বিজেপি। লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে তা বোঝা যাচ্ছে বেশ ভালই।

উল্লেখ্য, প্রতি দফা ভোটের পরই দলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট জমা পড়েছে। সেই সংখ্যা নিয়ে এখনই বিজেপি নেতারা কিছু বলতে নারাজ। বৃহস্পতিবার বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও কলকাতার মোট ৩৫টি আসনে ভোট হল। এই ৩৫টি আসনের মধ্যে একটা বড় অংশের আসন বিজেপির দখলে আসবে বলে মনে করছেন রাজ্য নেতারা। তাই আজ শেষ দফার ভোট মিটলেই বুথ ফেরত সমীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে। যদিও শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন, শেষ দু’দফার ভোট হচ্ছে বিজেপির ব্যবধান বাড়ানোর লড়াই। তবে অষ্টম দফার ভোটের পর বুথের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত নয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন- ‘এর আগে এত শান্তিপূর্ণ ভোট কোনওদিন দেখিনি’ সকাল সকাল ভোট দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী

তবে শুধু বিজেপি একা নয়, আজ চুলচেরা  বিশ্লেষণে বসবে তৃণমূল শিবির‌ও।

অষ্টম দফার ভোট এক প্রকার তৃণমূলের গড়ে হচ্ছে। ভোট ভাগাভাগি, ধর্মীয় মেরুকরণের মতো একাধিক ইস্যু থাকার পরেও রাজ্যের শাসকদল আশাবাদী যে, তাঁদের গড় অটুট থাকবে। চার জেলার মোট ৩৫টি আসনে ভোট। ২০১৬ সালে এই আসনগুলির মধ্যে বিজেপি মাত্র মালদহের একটি আসন জিতেছিল। ২০১৯-এই ছবিটা আমূল বদলায়। বীরভূমে রয়েছে ১১টি আসন। মালদহে বাকি ১২টির মধ্যে ছয়টি আসন। মুর্শিদাবাদের ২২টির মধ্যে ১১টি আসন। আর কলকাতার ১১টির মধ্যে সাতটি আসন। এই ক’টি আসনে আজ ভোট। গত বিধানসভার ফল বলছে, তৃণমূল এর মধ্যে জিতেছিল ১৭ টি আসন। বাকিগুলির মধ্যে বামেরা তিনটি, কংগ্রেস ১৩টি আর জোট সমর্থিত নির্দল প্রার্থী জিতেছিল একটিতে। অর্থাৎ পুরো আধাআধি ভাগ। এখান থেকেই লোকসভা ভোটে বিজেপির চূড়ান্ত উত্থান।

লোকসভা ভোটে বিধানসভার হিসাবে ১৯টি আসন পায় তৃণমূল। বিজেপি পায় ১১টি আসন। কংগ্রেস বাকি পাঁচটি। খাতা খোলেনি বামেদের। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বামেদের সব ভোট বিজেপিতে পড়েছিল। তাই বিজেপি দ্রুতহারে উঠে এসেছিল। কিন্তু এই বিধানসভা ভোটে তার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

RELATED Articles