দল ছাড়াছাড়ির খেলা সব দলেই প্রায়শই লেগে থাকে। বিভিন্ন দলের কর্মী সমর্থকরা নিজের দলের কোন কাজ পছন্দ না হলে, একদল থেকে অন্য দল এরূপ যাতায়াত করেই থাকেন। যে দলে এইরূপ ভাঙ্গন ধরে সেই দল যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে। ঠিক একই রকমভাবে ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসের দিন অধিকারী গড় যা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত, সেই স্থানে শাসকদলে লাগলো ভাঙল। ওই এলাকার দুটি স্থানে প্রায় দেড়শ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কর্মী সমর্থকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজেপির পতাকা। মোদিজীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার অঙ্গীকার গ্রহণ করে সংখ্যালঘু কর্মীরা আগের দল ত্যাগ করেছেন এই কথা জানান এবং কোলাঘাট ব্লকের গোপালনগর ও নওলাতে বিজেপির জেলা ও ব্লক স্তরের নেতাদের কাছ থেকে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন।
অধিকারী গড়ের গোপালনগর পার্টি অফিসে প্রায় ১০০ জন কর্মী, বিজেপি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা আলী আকবর এর নেতৃত্বে বিজেপিতে যোগদান করেন। বিজেপিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যোগদান নিয়ে কোলাঘাট মন্ডলের সভাপতির বিশ্বনাথ রাম বলেন, “শাসক দলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন আজ বিজেপির পতাকা তলে আসতে শুরু করেছে। দিন যত যাবে এই সংখ্যাটা আরোও বৃদ্ধি পাবে”।
বিজেপিতে যোগদানের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ রাম ছাড়া জেলা বিজেপির সম্পাদক দেবব্রত পট্টনায়েক, সংখ্যালঘু জেলা মোর্চার সভাপতি শেখ সাদ্দাম হোসেন সহ প্রমুখরা। বিজেপির ব্লক স্তরের নেতৃত্বরা এই অঞ্চলের নুগুরিয়া গ্রামে অনুষ্ঠান শুরুর আগে ৫০০ টি পরিবারের হাতে মিষ্টিমুখ সহযোগে প্রায় আড়াই হাজার মাস্ক তুলে দেন।
অন্যদিকে, জেলা সভাপতি নবারুণ নায়েক কোলাঘাট ব্লকের নহলা গ্রামে বিজেপির পার্টি অফিস উদ্বোধন করেন। কয়েকটি গ্রাম থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ জন কর্মী সমর্থক জেলা সভাপতি নবারুন নায়েকের হাত থেকে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে নেন। এমত অবস্থায় নবারুণ নায়েক দাবি করেন, “অত্যাচারিত, নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ থেকে সংখ্যালঘু মানুষরা বিজেপির পতাকার তলে আসবে”। যদিও এই দল ভাঙনের খেলা সব দলেই লেগে থাকে। তাই এই দল ভাঙন এবং দলে যোগদান কতদিন স্থায়ী হবে সেটা ভবিষ্যতেই বলে দেবে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন – অন্তরা ঘোষ





