‘একজন জেল ফেরত আসামী বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে’, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে আক্রমণ করায় কুণালকে তোপ বিজেপির রাহুলের

বেআইনি নিয়োগ নিয়ে মন্তব্য করে তৃণমূলের (TMC) প্রতীক প্রত্যাহার করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) জানাবেন বলেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Avijit Ganguly)। তা নিয়ে বিচারপতিকে কটাক্ষ করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। এবার তৃণমূল নেতাকে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা (Rahul Sinha)। এক জনসভা থেকে তিনি বলেন, “একজন জেল ফেরত আসামী বিচার ব্যবস্থাকে আক্রমণ করছে তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে”।

প্রসঙ্গত, গতকাল, শুক্রবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজিরা দেন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন। বেআইনি নিয়োগ নিয়ে এদিন সওয়াল-জবাব হয়। এদিন রীতিমতো রাগে ফেটে পড়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভার দলনেতা মুখ্যমন্ত্রী আর লোকসভার দলনেতা প্রধানমন্ত্রী। আমি ইলেকশন কমিশনকে বলব তৃণমূলের লোগো প্রত্যাহার করার জন্য”। দল হিসাবে তৃণমূলের মান্যতা প্রত্যাহার করার হুঁশিয়ারিও দেন বিচারপতি। এরপরই বিচারপতির নাম না করেই তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “নিজেকে অরণ্যদেব ভাবছেন কেউ কেউ। বিচারকের চেয়ারের প্রটেকশন নিয়ে কেউ যদি আমার দলকে তুলে দেওয়ার কথা বলে তাহলে তাকে কি আমি রসগোল্লা খাওয়াব?”

কুণাল ঘোষের এহেন মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “বিচার ব্যবস্থাকে হেয় করতে শিখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেই বিভিন্নভাবে হেয় করেছেন বিচারব্যবস্থাকে। এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা যে তার সঙ্গী সাথীরাও এই জিনিস করবেন”।

এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “তদন্তকারীরা চোরদের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছেন বলেই তারা বিচার ব্যবস্থাকে গালি দিতে শুরু করেছে। ঠিক এই কারণেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছে তৃণমূলের নেতারা। কার নির্দেশে দুর্নীতি হয়েছে তা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সবকিছু পরিষ্কার বলেই তৃণমূল এখন উষ্মা প্রকাশ করছে”।

কুণালের সারদা মামলা নিয়ে তাঁকে তোপ দেগে রাহুলের সংযোজন, “আর কে উষ্মা প্রকাশ করেছে? যে সারদার টাকা চুরি করে জেলে গিয়েছিল। এখনও মামলা চলছে তার বিরুদ্ধে। এমন কোন গ্যারান্টি নেই যে সে কাল জেলে যাবে না। এইরকম একজন জেল ফেরত আসামী বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে। এটা সম্পূর্ণ গণতন্ত্রকে অবমাননা ও ধ্বংস করার চেষ্টা। আমরা তীব্র নিন্দা করছি”।

RELATED Articles