রাজ্যে শিল্পায়ন হয় না, বিনিয়োগ নেই, এই নিয়ে বিরোধীদের তরফে বারবার রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। রাজ্যে যে বড় কোনও বিনিয়োগ হচ্ছে না, তা কখনও সরাসরি তো কখনও আবার পরোক্ষভাবে মেনেও নিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে কাজ না পেয়ে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের ছুটতে হয় অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে। এবার রাজ্যে স্বপ্ন ফেরি করলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বললেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই রাজ্যে শিল্পায়ন হবে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ৫ দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। চতুর্থ দিন অর্থাৎ আজ, শনিবার তিনি পৌঁছেছেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। সেখানেই দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে পাশে বসিয়ে স্বপ্ন ফেরি করেন মহাগুরু। বলেন, “আপনারা দেখবেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই রাজ্যে বিনিয়োগের বন্যা আসবে। চোখে দেখে ভাববেন, এটা সত্যি না স্বপ্ন”।
রাজ্যে শিল্পায়নের প্রথম চেষ্টা সিঙ্গুরের মাঠেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন উদ্যোগপতিরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জেদ বজায় রেখে যেভাবে একটা কারখানাকে ভেঙে ফেলতে বাধ্য করেছিলেন, তা উদ্যোগপতিদের কাছে ভয়ংকরই বটে। আর তার উপর টাটার মতো গোষ্ঠী যারা বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে, তাদের সঙ্গে মমতার এই আচরণ অনেক উদ্যোগপতিরাই মেনে নিতে পারেন নি।
আর এর ফলস্বরূপ রাজ্য সরকার দফায় দফায় শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করলেও বিনিয়োগ আসেনি। খাতায় কলমে মউ সাক্ষরিত হলেও চর্মচক্ষুতে তার ভগ্নাংশও প্রত্যক্ষ করেননি রাজ্যবাসী। এমনকী রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের কাছে বার বার শিল্প সম্মেলনের খরচ ও বিনিয়োগের তালিকা চেয়েছেন। সেই তালিকাও তুলে দেয়নি রাজ্য সরকার।
এর জেরে নিজের বাড়ি-পরিবার ফেলে বাংলার যুবক-যুবতীদের ছুটতে হয় ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে। পশ্চিমের সমৃদ্ধ রাজ্যগুলি তো বটেই, উত্তর-পশ্চিমের রাজ্যেও খনিশ্রমিকের কাজ করতে যান অনেকে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক কম বয়সী যুবক প্রাণও হারাচ্ছেন।





