বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা সোমবার রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন,
সরকার নাকি কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় শুয়ে আছে।
এদিন কসবায় বিজেপির আয়োজিত একটি ত্রাণদান অনুষ্ঠানে এসে রাহুল সিনহা বলেন, ‘আমি আগেই রাজ্য সরকারকে সর্তক করেছি নার্সদের চলে যাওয়ার বিষয়। এখন তারা চলে যাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারল না রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যে স্বাস্থ্যে পরিকাঠামো ধসে পড়ার মুখে। দিদির সরকার এখনও কুম্ভকর্ণের নিন্দ্রায় মগ্ন। ভাবতে অবাক লাগে রাজ্যে এত বড় ঘটনার পরও, সরকারের কোন হেলদোল নেই।’ শুধু অভিযোগই নয় তিনি এই সঙ্কটকালীন পরিস্হিতিতে রাজ্যকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সাথে এক্ষুনি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কথা বলা উচিত। নাহলে সরকার নিজেই এক বিরাট বিপদকে আমন্ত্রণ দেবেন।’
এর পাশাপাশি বেসরকারি বাস শ্রমিকদের বিমার দাবি নিয়েও তিনি সোচ্চার হন। রাহুলবাবু বক্তব্য,‘ বেসরকারি বাস চালকদের অবশ্যই স্বাস্থ্য বিমা করতে হবে। মোদি সরকারও সেই পদক্ষেপ করেছে।একবার বাস চালু হয়ে গেলে সেখানে রোজ কতশত যাত্রীরা উঠবেন। তাদের মধ্যে কেউ করোনা সংক্রামিত হলে কিভাবে বুঝবে মানুষ? আর তার থেকে বাস শ্রমিকদের সেই সংক্রমন হলে তার সুরাক্ষার জন্যে অবশ্যই বিমা করতে হবে।’
পাশাপাশি বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবি নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০ জন নিয়ে বাস চালালে জ্বালানির খরচই তো উঠবে না। আবার বেশি যাত্রী তুললে সংক্রমণেরও ভয় আছে। তাই রাজ্যের পরিবহন দপ্তরের উচিত বাস সংগঠকদের সাথে এইসমস্ত বিষয় আলোচনা করে একটা সিন্ধান্তে আসতে। শুধু নির্দেশিকা জারি করে বাস চালাতে গেলে স্বাস্থ্যের মতো পরিবহণ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়বে।’
কেন্দ্রের আর্থিক প্যাকেজ, বেসরকারিকরণ, বিরোধিদের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে রাহুল সিনহা বলেন, ‘মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে বিরোধীরা। কেন্দ্র প্যাকেজের টাকা দিচ্ছেন যাতে মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হতে পারেন। কৃষি, মৌমাছি পালন, শ্রমিকদের টাকা দেওয়া, ক্ষুদ্র শিল্প এসব নানা ছোটো ছোট কাজেকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া কি বেসরকারিকরণ? আর কয়লাতো আগে বেসরকারিই ছিল পরে রাষ্ট্রীয় হয়েছে। কিন্তু তাতে কি লাভ হয়েছে? কত কোল ব্লক আমরা বাড়াতে পেরেছি? আন্তর্জাতিক স্তরে আর্থিক দিক থেকে দাঁড়াতে গেলে এটা ব্যতীত উপায় নেই। আর প্রতিরক্ষাকে বেচে দেওয়া হয়েছে , এটাও ডাহা মিথ্যা। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা বিদেশ থেকেই অস্ত্র কিনি। কিন্তু এখন আমরা টেকনলজি আর যন্ত্রাংশ বাইরে থেকে নেব। বাকি কিছু সংবেদনশিল ও গুরুত্বপূর্ন অস্ত্র আছে যা আমরা নিজেরাই বানাবো। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও স্বনির্ভর হবে।






