রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে বারবারই উঠেছে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ। আর এবার সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রহৃত হলেন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর বাড়ীতে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় কাঁকসার গোপালপুর উত্তরপাড়া এলাকায়। ঘটনায় গুরুতর জখম সুশান্ত সানা ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যথারীতি অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ। সূত্র মারফত জানা গেছে, আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর নাম সুশান্ত সানা। পেশায় তিনি একটি বেকারী বিস্কুটের দোকান চালান। এবং গোপালপুর বিজেপি’র ৪ নম্বর মণ্ডলের ২৫৫ নম্বর বুথের সভাপতিও তিনি।
দুর্গাপুর হাসপাতালে সুশান্তবাবু বলেন, “এলাকায় শাসকদলের দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছি। তার রোষে আমার বাড়িতে তৃণমূলের রমেন্দ্রনাথ মন্ডল তাঁর দলবল নিয়ে হঠাৎই চড়াও হয়। লাঠি, রড দিয়েে এলোপাথাড়ী মারধর করে এবং পরিবারের লোকজন’কে মারধর করে। স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে আসায়, তাকেও মারধর করে।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনায় আহত হয় ৪ জন। খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপিকর্মীরা আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে রমেন্দ্রনাথবাবু বলেন, “এদিন সকালে তিনি চুল কাটার জন্য একজন ক্ষৌরকার’কে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন। ওই ক্ষৌরকার দেরিতে আসায় সুশান্ত সানা তাঁকে মারধর করেন। এর পরে ওই ক্ষৌরকার বিষয়টি এলাকাবাসী’কে জানাতেই এলাকাবাসী ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এক ক্ষৌরকার’কে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ বিজেপি’র কর্মীরা তাঁকে মারধর করেছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের কেউ যুক্ত নেই। বিজেপির নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।” বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন,” তৃণমূলের দুর্নীতির প্রতিবাদ করাই তাঁরা আমাদের কর্মীদের মারধর করছে। ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, “ঘটনার তদন্ত চলছে।”





