গত সোমবার, তখন গভীর রাত। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রয়েছে পাড়া। কিন্তু কেউ কী ভেবেছিল, সেই মাঝরাতেই কত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাবে। ঘুমের মধ্যে কিছু বোঝার আগে পুড়ে ছাই হয়ে গেল দশটা দেহ। যদিও পুলিশের দাবী আটজনের মৃত্যু হয়েছে। রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের এই হত্যালীলা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই শাসকদলের দিকে আঙুল তুলেছিল বিজেপি-কংগ্রেস-সিপিএম। গতকাল, বৃহস্পতিবার বগটুই গ্রামে মৃতদের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিজনদের সান্ত্বনা দেন তিনি। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ও চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
গতকাল বগটুই গ্রামে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলাপুলিশকে নির্দেশ দেন যাতে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আনারুলের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। শেষে তারাপীঠের এক হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বলে রাখি, স্থানীয়রা প্রথম থেকেই অভিযোগ করে এসেছেন যে আনারুল হোসেনের নির্দেশেই গ্রামের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছিল।
কিন্তু আনারুল কী আবার কোনওভাবে নিজের উপরমহলের কথা শুনে আগুন লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিল? হ্যাঁ এমন প্রশ্ন উঠছে কারণ বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এই বগটুই গণহত্যাকাণ্ড নিয়ে এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, ঘটনার দিন রাতে আনারুল ফোন করেছিলেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। আর সেই সময় অনুব্রত আনারুলকে বলেন, “দুটো বাড়ি জ্বলছে, জ্বলতে দিন না”।
বিজেপি নেতার এমন অভিযোগে এক অন্যদিক খুলে গিয়েছ এই ঘটনার। সৌমিত্র খাঁর অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডল যে এমন মন্তব্য করেছিলেন ফোনে, সেইদিকে কেন আলোকপাত করা হচ্ছে না? কেন তাঁর ফোন খতিয়ে দেখা হচ্ছে না? তাহলে কী অনুব্রত মণ্ডলকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি আনারুলকে গ্রেফতার করা হল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে? এমন নানান প্রশ্নই উঠছে এখন।
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মত, অনুব্রতকে আড়াল করতেই হয়ত আনারুলকে গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলে রাখি, বগটুইয়ের ঘটনার পরই কোনও তদন্তের আগেই অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন যে টিভি ফেটে নাকি আগুন লেগেছে বাড়িতে। তার জেরেই পুড়ে যায় গৃহীরা। তবে এখন তাঁর বিরুদ্ধে যে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল, এখন সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কতটা পদক্ষেপ নেওয়া হয় বা আদৌ নেওয়া হয় না কি, এখন সেটাই দেখার।





