মিলে যাচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের কথা। ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে ২০০ ঘরে ঢুকে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। অমিত শাহ্’র আশাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে এখনও পর্যন্ত একশোর ঘরেও ঢুকতে পারেনি বিজেপি।
বিপুল দাপটে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আবহাওয়াটা এরকম ছিল না। সবাই ভেবেছিল টক্কর হবে কাঁটায় কাঁটায়। কিন্তু বাঙালি যে এখনও আস্থা রেখেছে বিজেপিতে সেটা প্রমাণ করেই এবার ফের বঙ্গে শাসনে ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তত এখনও পর্যন্ত গণনা তাই বলছে।
আর এই অবস্থায় বিপুল প্রচার-প্রচারণা করা বিজেপি নেতা-কর্মীদের মুখ ভার।অপ্রত্যাশিত এই ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, অত্যাধিক কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপেই পশ্চিমবঙ্গে হারছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গ দখল করার কথা তো অনেক দূরের বিষয়, লোকসভার ফলাফলের ধারে-কাছে নিয়ে বিধানসভার ফল।
কিন্তু কেনও এই বিশাল বিপর্যয়? বুঝে উঠতে পারছেন রাজ্যে বিজেপি নেতারা। কেন্দ্র-রাজ্য অন্য সরকার রাখার ট্রেন্ডই অব্যাহত বাংলায়।
এই বিপুল ব্যবধানে হারের কারণের ময়না তদন্ত করতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতাদের কথায়, এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে দিল্লিতে। সেখানে রাজ্যের নেতারা হাজির থাকলেও বহুক্ষেত্রে দলীয় কাঠামোর জন্য তাঁদের মত তেমন গুরুত্ব পায়নি।
এক বিজেপি নেতার কথায়, বিহার বা গুজরাতের মানুষের সঙ্গে বাংলার মানুষকে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। তাছাড়া ভোটপ্রচারে লাগাতার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্’র উপস্থিতিতে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের নেতারা। লোকসভা নির্বাচনে তাদের দেখে মানুষ ভোট দিলেও বিধানসভায় তার প্রভাব পড়েনি। একইসঙ্গে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল বিজেপি বলে মনে করছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।





