রাজ্যজুড়ে দুয়ারে সরকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরে দেখা গিয়েছিল দুয়ারে সরকার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করে দিচ্ছেন সিপিএম কর্মীরা। এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে আমজনতার সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলেন বিজেপি নেতা-নেত্রীরাও। বনগাঁয় দেখা গেল এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সম্প্রীতি।
গতকাল, বুধবার বনগাঁ কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বল্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ছিল ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের শিবির। সেখানে সাধারণ মানুষকে এই প্রকল্পে সাহায্য করতে দেখা গেল বিজেপি নেতাদের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অর্ণব সুর, কালুপুর পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য লতিকা সুর, প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, হরিদাস রায়রা।
নানান মানুষের ফর্ম ফিলাপ করে দিতে সাহায্য করছিলেন তাঁরা। এছাড়াও সকলকে নানান প্রকল্প সম্পর্কেও জানালেন। সরকারি প্রকল্পের কাজে বিজেপি নেতাদের এমনভাবে সহযোগিতা করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা কার্যত হতবাক।
আরও পড়ুন- কৃষক আন্দোলন দমনে নয়া হাতিয়ার মোদীর, রবিশস্যে বাড়ানো হল ন্যুনতম সহায়ক মূল্য
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা অর্ণব সুর বলেন, “আমরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে থাকাটাই রাজনীতি”। অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী লতিকা সুর এই প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষের জন্য দল। দলের জন্য মানুষ নয়৷ মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে জিতিয়েছে৷ তাই এখানে এসে সকাল থেকে সাধারণ মানুষদের সহযোগিতা করছি”। কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, “আমাদের সরকার মানুষের উন্নয়নের কথা বলে। আজ আমাদের পাশাপাশি বিজেপি নেতারা এসে সহযোগিতা করছে”।
এর আগে দুয়ায়ে সরকার প্রকল্পে সাধারণ মানুষকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন বাম নেতারা। নানান সহযোগিতা করেন তারা। সেই সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দারা সাক্ষী থেকেছিলেন সৌজন্যের রাজনীতির।
তবে বর্তমান সময়ে তৃণমূল ও সিপিএমের ঘনিষ্ঠতা যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। এবার বনগাঁর মানুষও সাক্ষী থাকল সরকারি প্রকল্পে বিজেপির এমন সহযোগিতার। মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে এগিয়ে এলেন তারা। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে এমন এক চিত্র নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





