‘দ্বিতীয় বিয়ে’ করে বিপাকে বিধায়ক, তাহলে কী ভয়ে ফুল বদলাচ্ছেন চন্দনা? জল্পনা তুঙ্গে

আজ, সোমবার হঠাৎ এক উড়ো খবর শোনা যায় যে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি নাকি দলবদল করছেন। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যাচ্ছেন তিনি। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কী ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নিয়ে বিতর্কের জেরে বিপাকে পড়েছেন তিনি?

চন্দনা বাউরি, অত্যন্ত সাদামাটা ছাপোষা ঘরের দিনমজুরের স্ত্রী। একুশের নির্বাচনে সবথেকে গরীব প্রার্থী হওয়ায় মানুষের মন জয় করে তিনি। বিজেপির হয়ে লড়ে তাবড় তাবড় তারকা প্রার্থীরা যেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে সেখানে জয় হাসিল করেন চন্দনা। তবে কিছুদিন আগেই নিজের গাড়ির চালককে পালিয়ে বিয়ে করার প্রসঙ্গে তুমুল বিতর্কে জড়ান তিনি। যদিও চন্দনা এইসব অভিযোগ নাকোচ করেন।

আরও পড়ুন- অবশেষে বড়সড় স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু অধিকারী, এখনই বিরোধী দলনেতাকে গ্রেফতার নয়, নির্দেশ আদালতের

তবে এরই মধ্যে আজ সকালে হইচই পড়ে যায় এই খবরে যে চন্দনা বাউরি তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। এদিকে, আজই বিষ্ণুপুরের বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারী। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নানা বেসুরো বিধায়কদের দলে ধরে রাখতেই এবার সংগঠনে মন দিচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। নানান বেসুরো বিধায়কদের নামের তালিকায় উঠে আসছে চন্দনার নামও। তবে চন্দনা এক সংবাদমাধ্যমে জানান যে তিনি কোনওভাবেই দলবদল করছেন না। কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি নাকি দলবদলের সিদ্ধান্ত নেন নি।

শুভেন্দু অধিকারী কেন হঠাৎ বৈঠক করছেন এই প্রসঙ্গে চন্দনা বলেন, শুভেন্দুবাবু আসছেন তা দলের কর্মসূচির জন্য। এর সঙ্গে দলবদলের কোনও সম্পর্ক নেই। শুভেন্দুবাবু কাজে আসতেই পারেন”। তবে এদিকে শুভেন্দুর অভিযোগ, বিধায়ক তন্ময় ঘোষ তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নাকি চন্দনাকেও তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে। বিষ্ণুপুরের সংগঠনের হাল কেমন, তা জানতেই এই বৈঠক, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে চন্দনা বাউরিকে তৃণমূলে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিধায়কের স্পষ্ট অভিযোগ, “চন্দনা বাউরিকে পুলিশ সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিতে বলেছে। কিন্তু ভাঙা ঘরে থাকা তফসিলি পরিবারের মহিলা চন্দনা বাউরি আত্মসমর্পণ করেননি। তিনি আগেও বিজেপির সঙ্গে ছিলেন, এখনও বিজেপির সঙ্গেই রয়েছেন। চন্দনাকে পুলিশ সরাসরি বলেছে ‘৬ মাস জেল খাটুন।’ বিজেপির হাজার হাজার কর্মীরা জেলে আছেন কারণ তাঁরা এই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বিজেপির ঝাণ্ডা ধরেছেন”।

আরও পড়ুন- সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন শুভেন্দু, রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন রাজ্যপালও, ক্রমেই ঘনাচ্ছে জল্পনা

তবে এভাবে একের পর এক বিধায়কের বেসুরো হওয়ার নেপথ্যে কী শুধুই শাসকদলের চাপ ও হুমকি, নাকি দায়ী বিজেপির সাংগঠনিক পরিকাঠামো? উঠছে প্রশ্ন। এই উত্তর পেতে বেশ সমস্যাতেও পড়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সঙ্গে বারবার এভাবে বৈঠকে বসার ফলে যে দলের অন্দরের রুটম্যাপ তৈরির প্রস্তুতি হচ্ছে, তাও মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

RELATED Articles