পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ ক্রমশই চড়ছে। রাজ্যের শাসন, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সবকিছু নিয়েই এখন তুমুল আলোচনা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে বহুগুণে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে কোন দল কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। কারণ, এই প্রতিশ্রুতিই ঠিক করে দেয় আগামী পাঁচ বছরের দিশা।
গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই প্রকাশ পেতে পারে তাদের সঙ্কল্পপত্র। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহের পরই এই ইস্তাহার তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি। জেলা স্তরে ‘ড্রপ বক্স’ বসিয়ে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। সেই সব মতামতের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে এই নথি, যেখানে সাতটি মূল বিষয়কে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
সঙ্কল্পপত্রে সবচেয়ে বড় জোর দেওয়া হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ওপর। গত ১৫ বছরের শাসন নিয়ে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা, বালি, পাথর এইসব ক্ষেত্রের তথাকথিত সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক প্রকল্পেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বেকারদের জন্য মাসিক সহায়তা বাড়ানো, এবং সমস্ত শূন্যপদ স্বচ্ছভাবে পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং মহিলা সুরক্ষা নিয়েও বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক আদালত সক্রিয় করা, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি, এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং কুড়মালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। অন্যদিকে উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি, বড় নদীগুলির উপর সেতু নির্মাণ, সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। উত্তরবঙ্গে কৃষি, শিল্প ও পর্যটনে বিশেষ জোর দেওয়ার কথাও রয়েছে।
সঙ্কল্পপত্রের শেষ অংশে উঠে এসেছে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ গঠনের পরিকল্পনা। শিল্প ক্ষেত্রে একাধিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, চা ও পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন, এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কলকাতা-হাওড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় লজিস্টিক হাব তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য, হিমঘর বৃদ্ধি, এবং মৎস্যচাষে উন্নয়ন এই সবই জায়গা পেয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা, শূন্যপদ পূরণ, এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতেও ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা, উন্নত পরিকাঠামো এবং সবার জন্য চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “বিজেপি করি না ভোটের পর মুচলেকা দিতে হবে” এই বার্তা কি গণতন্ত্রের পরিপন্থী? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে উঠছে বড় প্রশ্ন! উদ্বেগ বাড়ছে ভোটারদের স্বাধীনতা নিয়ে, কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব বিজেপি!
সব মিলিয়ে, এই সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ পেলে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, এই প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে।





