একুশে বাংলায় সাফ হচ্ছে ঘাসফুল? রাজ্যে ফুটবে পদ্মফুল? একুশের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের জন্য করা সমীক্ষা ঠিক সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই সমীক্ষা জানাচ্ছে যে বঙ্গবাসীর কাছে পদ্ম শিবিরের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশই বাড়ছে। তৃণমূল শিবিরের ওপর ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে রাজ্যবাসীর মনে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আগামী বছর নাকি ঘাসফুল কোন দলের দিকে পাল্লা ভারী তা জানতে দুটি সমীক্ষা করা হয়েছিল এবং সেই সমীক্ষা থেকে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। জানা গিয়েছে আগামী বছর রাজ্যে পদ্ম শিবিরের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যা শুনে ৬, মুরলীধর সেন লেনের ঘরে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি। তবে জানা গিয়েছে গেরুয়া বাহিনীকে কিছু কিছু এলাকায় সাংগঠনিক জট কাটাতে হবে তবেই আশাপ্রদ ফল মিলবে।
আগামী বছর মমতা সরকারকে রাজ্য থেকে বিদায় দিতে রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি। তাই রাজ্যবাসীর মন বুঝতে দুটি এজেন্সিকে দিয়ে রাজ্যের ৭৮০০০ বুথে সমীক্ষা চালিয়ে ছিল বিজেপি। এই সমীক্ষা পর্বে বিজেপির শক্তিশালী জায়গাগুলোকে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে সেরকমই বিজেপি এখনো কোন কোন জায়গায় দুর্বল হয়েছে তাতেও কিন্তু আলোকপাত করা হয়েছে। সেইরকমই প্রতিপক্ষ শিবির কোন বিষয়ে এখনও রাজ্যে শক্তিশালী এবং তাদের কোন জায়গা দুর্বল সেইগুলি বিশদে প্রকাশ করা হয়েছে এই সমীক্ষায়। এছাড়া জানা গিয়েছে নভেম্বরের শেষে আর একটি সমীক্ষা চালানো হবে।
এই সমীক্ষার ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেই আগামী বছরের জন্য রণনীতি সাজাবে বিজেপি। প্রথম সমীক্ষাটি করা হয়েছিল গত বছরের শেষে এবং দ্বিতীয় সমীক্ষাটি করা হয়েছিল গত জুলাইতে। এই দ্বিতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে আমফান পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তা আদতে বিজেপির পক্ষে সহায়ক হচ্ছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে লোকসভাতে ভালো ফল করলেও বিধানসভা নির্বাচন একদমই অন্য বিষয় তাই গ্রাউন্ড রিয়ালিটি চেক করতে আমাদেরকে সমীক্ষা চালাতে হয়েছে। এই সমীক্ষার কথা রাজ্য বিজেপির কয়েকজন শীর্ষ নেতাই কেবলমাত্র বিশদে জানেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতা জানাচ্ছেন যে যেরকম সরকারের ১০ বছরের মানুষ তাদের উপস্থিতি বিরক্ত তাই তারা তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে বিজেপিকেই বেছে নিচ্ছেন।
এই তিনটি সমীক্ষার পাশাপাশি সমস্ত জেলার সংগঠনের থেকেও রিপোর্ট নেবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তারপর এই রিপোর্ট গুলোতে পর্যালোচনা করে দলের প্রার্থী বাছাই, ইস্তাহার থেকে শুরু করে বাকি যাবতীয় রণকৌশল তৈরি করবে বিজেপি। সমীক্ষা প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘‘আমাদের দল এ ধরনের সমীক্ষা করে থাকে। এর থেকে বিশদে কিছু বলতে পারব না’’।
এবার তৃণমূল এই খবর জেনে কী বলছে? কি রকমের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য এই সমীক্ষাগুলোকে একদমই আমল দিচ্ছেন না। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় সবচেয়ে জনপ্রিয় জননেত্রী এই রাজ্যে। তাঁর মাস অ্যাপিলের ধারে কাছে বিজেপির কেউ নেই।
এখন এটাই দেখার যে এই সমীক্ষার ফলাফল আগামী বছর সত্যি হয় কিনা। সত্যি করার জন্য অবশ্য যেভাবে আটঘাট বেঁধে নেমে পড়েছে বিজেপি তাতে বলা যেতেই পারে আগামী বছর রাজ্যে ক্ষমতার ভার বিজেপির হাতেই হয়তো যাচ্ছে।





