শেখ শাহজাহান, এই নামটা বিগত বেশ কিছুদিন ধরে বঙ্গ রাজনীতিতে দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ টালবাহানার পর গ্রেফতার হয়েছেন সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান। প্রথম ঝন তাঁকে মিনাখাঁ থেকে গ্রেফতার করে আদালতে আনা হয়, সেই সময় পুলিশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলার দৃশ্য সকলের মনে রয়েছে নিশ্চয়? কিন্তু সিবিআইয়ের হাতে পড়তেই সমস্ত মেজাজ নিমেষে শেষ শাহজাহানের। ‘বাঘ’ যেন কার্যত ‘ভিজে বেড়াল’ বনে গেল কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে পড়েই।
গত ৫ জানুয়ারি শেখ শাহজাহানের বাড়ি তল্লাশিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। সেই সময় থেকে পলাতক ছিলেন শাহজাহান। এরপর স্নদেশখালির মহিলারা গর্জে ওঠেন শাহজাহান ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে। জমিবাড়ি দখল থেকে শুরু করে শ্লী’ল’তা’হা’নি, নারী নির্যাতন কোনও অভিযোগই বাদ ছিল না তাদের বিরুদ্ধে।
শাহজাহানের সাগরেদ উত্তম ও শিবুকে গ্রেফতার করা হলেও, দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন মাথা নিজে। অবশেষে ঘটনার ৫৫ দিন পর গ্রেফতার করা হয় শাহজাহানকে। মিনাখাঁ থেকে যেদিন শাহজাহানকে বসিরহাট আদালতে তোলা হয়, সেদিন তাঁকে স্বমেজাজেই দেখা গিয়েছিল। পরনে সাদা জামা, সাদা প্যান্ট, ধূসর রঙের কোট, পায়ে সাদা স্নিকার্স কিছুই বাদ যায়নি।
সেদিন তাঁর কোমরে দড়ি তো দূর, হ্যান্ডকাফও দেখা যায়নি। পুলিশের আগে আগেই আদালতে ঢোকেন তিনি বুক ফুলিয়ে। দেখে বোঝার উপায় ছিল না অভিযুক্ত কে আর গ্রেফতারকারী কে! ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জনতা ও পুলিশের ভিড়ে শাহজাহান যেভাবে আদালতে ঢুকেছিলেন, তাতে তাঁকে ‘জামাই রাজা’ বলেই মনে হয়েছিল। এই নিয়ে বিরোধীরাও সরব হয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, শাহজাহানের হাত ধরার সাহস নেই পুলিশের।
কিন্তু বুধবারের চিত্রটা একেবারে উল্টো। ১৮০ ডিগ্রি ভোলবদল শাহজাহানের। এদিন তাঁকে আদালতের নির্দেশে হস্তান্তর করা হয় সিবিআইকে। যখন শাহজাহানকে নিয়ে নিজাম প্যালেসে সিবিআই ঢোকে, তখন শাহজাহানের গর্বে বুক ফোলানো তো দূর, মনের জোরটাই দেখা গেল না। তাঁর শরীরের ভাষা একেবারে অন্য। হাতবদল হতেই ভোলবদলও ঘটল শাহজাহানের। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিবিআই অফিসারদের ঘেরাটোপের মধ্যেই নিজাম প্যালেসে ঢোকানো হয় তাঁকে। অনেকেরই এই দৃশ্য দেখে মত, নিজের এলাকার ‘বাঘ’ অন্য এলাকায় যেতেই ‘ভেজা বেড়াল’ হয়ে গিয়েছে।





