তৃণমূল নেতার বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত বোমা, আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা, ফের রণক্ষেত্র কালিয়াচক

ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরে উত্তেজনা ছড়াল কালিয়াচকে। আজ, রবিবার সকালে আচমকাই কেঁপে উঠে তৃণমূল নেতার পরিত্যক্ত বাড়ি। বোমা ফাটার শব্দে বাইরে বেরিয়ে আসেন এলাকাবাসী। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, কালিয়াচক ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাটুয়াতলী চাঁদপুর গ্রামের পরিচিত তৃণমূল নেতা রফিকুল শেখের বাড়িতে ভোররাত্রে বোমা ফাটার শব্দ পাওয়া যায়। কালিয়াচক থানার পুলিশ জানায় যে সেই বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ছিল বোমা। কোনওকারণে দু-তিনটি বোমা একসঙ্গে ফেটে যায়।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে সেই বাড়ির চালে তিনটি তাজা বোমা পাওয়া গিয়েছে। বোমার তীব্রতার জেরে আশেপাশের কয়েকটি ঘরের চাল উড়ে গিয়েছে। এলাকার মানুষকে সরানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই পলাতক অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রফিকুল শেখ ও তাঁর অনুগামীরা।

এই বোমাবাজির ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই বাড়িটি তৃণমূল নেতা রফিকুলেরই। বাড়িতে কেউ থাকত না। ওই বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। কাছেই অন্য একটি বাড়িতে থাকতেন তৃণমূল নেতা। তবে বোমাবাজির পর কেউ আর রফিকুলকে দেখেনি।

সূত্রের খবর, ওই পঞ্চায়েতে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন অনুগামী একটি গোষ্ঠী রয়েছে। সেই গোষ্ঠীর বিরোধী নেতাই হলেন রফিকুলরা। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই নাশকতার ছক তৈরি হচ্ছিল। এই কারণেই চলছি এই বোমা মজুতের কাজ।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই কালিয়াচকের বাবুরহাট গ্রামের এক পরিত্যক্ত জমিতে বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল। কিছু বাচ্চা সেখানে খেলতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের জেরে আহত হয়। স্থানীয়দের দাবী ছিল, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এমন ঘটনা ঘটে।

আবার কিছুদিন  আগেই, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচনকে ঘিরে বাঁধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এর জেরে অবরুদ্ধ করা হয় জাতীয় সড়ক। সেই অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশের দিকে গুলি চালানো হয়। পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।

এই গোলাগুলির ঘটনায়  পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন কালিয়াচকের ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান আলিউল শেখ। বাজির আগুন ছিটে লাগায় পুলিশ গুলি চালিয়েছে, এমন অভিযোগ করেন আলিউল। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন যে  পুলিশ কর্তারা বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দিয়েছেন। মূলত পঞ্চায়েতের প্রাক্তন ও নবনির্বাচিত প্রধানের মধ্যেই বিরোধের জেরে চলে ওই গুলিবর্ষণ।

আরও অন্যান্য খবর