West Bengal politics : “কর্মীদের মাথায় স্টিচ পড়লে পাল্টা কব্জি কে*টে নেব” — ভোটের আবহে বিজেপি-তৃণমূল সং*ঘাতে বাংলার রাজনীতিতে বাড়ছে হিংসা*র ইঙ্গিত!

রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন কিছু নয় বাংলার মাটিতে। বিশেষ করে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ এবং সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসতে শুরু করেছে। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনেক সময়েই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঠিক এমনই এক ঘটনার জেরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। অভিযোগ, গত ৩ মার্চ গলসির মহড়া গ্রামে বিজেপির দুই কর্মীকে মারধর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে শুরু করে। আহতদের চিকিৎসা, পুলিশি তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবি—সব মিলিয়ে বিষয়টি দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন বিজেপি কর্মী বাপন কারক ও হেমন্ত ঘোষের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হামলায় গুরুতর জখম হন হেমন্ত ঘোষ। তাঁর মাথা ও পায়ে আঘাত লাগে বলে জানা যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁদের উদ্ধার করে আদ্রাহাটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তোলে দলটি। ইতিমধ্যে পুলিশ লক্ষণ ঘোষ ওরফে সুশীল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনার মাঝেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেন বিজেপি নেতা রাজু পাত্র। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, কর্মীদের উপর হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে, আর প্রয়োজনে হামলাকারীদের হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে নেওয়া হবে—এমন মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

আরও পড়ুনঃ “আপনার মা বা বোন থাকলে জিজ্ঞেস করবেন তো!” চেহারা নিয়ে লাগাতার ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে, অসুস্থতার কষ্টের কথা জানালেন ইমন চক্রবর্তী! কোন রো’গে আক্রান্ত তিনি? চিকিৎসার কী উপায়?

রাজু পাত্রের এই মন্তব্যকে ঘিরে পাল্টা তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গলসি ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শৈলেন হালদার দাবি করেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। তাঁর বক্তব্য, এক মহিলার শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বচসা হয়েছিল। পাশাপাশি কব্জি কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, অতীতে বাম আমলে এমন ঘটনা ঘটত, আর যিনি এখন এই ধরনের কথা বলছেন তাঁর রাজনৈতিক অতীত ঘাঁটলে সেই ইতিহাসই সামনে আসবে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles