Journalist Harassment: সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগে এএসআই সাসপেন্ড! মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগেই জেলা পুলিশের কাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে নেটিজেনরা!

পূর্ব বর্ধমান শহরজুড়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। স্বভাবতই এমন সময় প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলের নজরই থাকছে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে। কিন্তু এই প্রস্তুতির আবহেই হঠাৎ এক ঘটনার জেরে সরগরম হয়ে ওঠে জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

সোমবার সন্ধ্যায় বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েজ় স্কুলের মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল ঘিরে কর্মব্যস্ততা চলছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রস্তুতির ছবি তুলতে গেলে আচমকাই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা এক এএসআই এক ফটোসাংবাদিককে জোর করে মাঠ থেকে বের করে দেন। উপস্থিত মানুষের বিস্ময় কাটার আগেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় নেট দুনিয়ায়, সাংবাদিক মহল থেকেও ওঠে ক্ষোভের সুর।

প্রশ্ন উঠতে থাকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। কারণ সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন জেলা প্রশাসক আয়েশা রানি এ এবং জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। অথচ এক কর্তব্যরত অফিসারের এমন আচরণ নিয়ে সমালোচনা চরমে ওঠে। নিন্দার ঝড় উঠতেই তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। অভিযুক্ত অফিসার হিসেবে চিহ্নিত করা হয় দেবাশিস কুমার দে-কে, যিনি আসলে জেলার এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ওই এএসআইকে সাসপেন্ড করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ইউটিউবারদের জন্য বড় বার্তা! সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, ‘কনটেন্ট’-এর নামে আর নয় যা খুশি

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই প্রশাসনিক সভা থেকে পুলিশকে সতর্ক করে দিয়ে থাকেন—জনসাধারণ ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ বজায় রাখার বিষয়ে। অথচ তাঁরই সফরের ঠিক আগে এমন ঘটনা ঘটায় চাপে পড়ে প্রশাসন। জেলা পুলিশের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা শুধু দায়িত্ব নয়, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্যও প্রয়োজনীয়। তাই কঠোর শাস্তির মাধ্যমেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

RELATED Articles