C V Ananda Bose : ইস্তফার পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন সি ভি আনন্দ বোস! বাংলার রাজনীতিতে কি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন তিনি?

বাংলার রাজনীতিতে আচমকা সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে যখন সেই সিদ্ধান্ত আসে রাজভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে। গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল একটি নাম—সি ভি আনন্দ বোস। আচমকা রাজ্যপাল পদ থেকে তাঁর ইস্তফা ঘিরে শুরু হয় নানা জল্পনা, রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয় কৌতূহল। কিন্তু এতদিন সেই প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

পদত্যাগের চারদিন পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন সি ভি আনন্দ বোস। রবিবার সকালে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে সংক্ষিপ্ত কথাতেই জানিয়ে দেন, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তিনি হঠাৎ করে নেননি। তাঁর কথায়, ভেবেচিন্তেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত—সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কারণটি আপাতত ‘কনফিডেন্সিয়াল’ বা গোপনই থাকছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বোস বলেন, “কারণটা কনফিডেন্সিয়াল। ঠিক সময় এলে সব বলা হবে।” তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে। একইসঙ্গে তিনি একটি দার্শনিক মন্তব্যও করেন—যেখানে প্রবেশ আছে, সেখানে একদিন প্রস্থানও থাকবে। যদিও তাঁর এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই স্পষ্ট, আপাতত তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাইছেন না।

আরও পড়ুনঃ President Droupadi Murmu : দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গসফরে ‘প্রোটোকল ভাঙা’র অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি! মমতার ব্যাখ্যার মাঝেই রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব শাহী-মন্ত্রকের!

রাজ্যপাল পদ ছেড়ে দিলেও বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে শেষ হয়ে যায়নি, সেটাও স্পষ্ট করেছেন বোস। তিনি জানান, বাংলার ভোটার হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করেন। কিছুদিন আগেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হওয়ার আবেদন করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি অবশ্যই বাংলায় আসবেন। তবে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত নতুন কিছু নয়। নানা ইস্যুতে অতীতে রাজভবন ও নবান্নের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর পদত্যাগের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশ্ন তুলেছিলেন—এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না। যদিও রবিবার সাংবাদিকদের সামনে সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান বোস। রাষ্ট্রপতির মন্তব্য বা প্রোটোকল বিতর্ক নিয়েও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। শুধু বলেন, রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তি, তাঁর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। তবে সব মিলিয়ে বোসের এই রহস্যময় পদত্যাগ এখনো রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হিসেবেই থেকে গেল।

RELATED Articles