“তৃণমূল চাইছে না বেশি মহিলা নেতা উঠুক”, বাঁকুড়া থেকে সরাসরি তো*প নরেন্দ্র মোদির! মহিলা বিল ইস্যুতে তীব্র সংঘা*ত, এই অভিযোগই কি ভোটে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে?

নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চ যেন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে সভা-সমাবেশে বাড়ছে ভিড়, অন্যদিকে বাড়ছে বক্তব্যের তীব্রতা। বিশেষ করে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত, যা ভোটের ঠিক আগে রাজ্যের আবহে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ এই বিতর্কের আসল তাৎপর্য কী?

এই পরিস্থিতিতেই বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল সংসদে পাশ না হওয়ার জন্য তিনি তৃণমূলকে দায়ী করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই বিল আটকে দিয়ে বাংলার মহিলাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এমনকি তৃণমূলকে ‘মহাসাজা’ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বারবার মহিলা ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে মহিলাদের শক্তিশালী করা জরুরি। তাঁর দাবি, বিজেপি সবসময়ই নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করেছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল চায় না বেশি সংখ্যক মহিলা বিধায়ক বা সাংসদ সামনে আসুক, কারণ তা হলে তাদের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়বে। সভামঞ্চ থেকেই তিনি প্রশ্ন তোলেন বাংলার মা-বোনেরা কি এই আচরণের জবাব দেবেন না?

তবে এই অভিযোগের জবাব আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, এই মহিলা সংরক্ষণ বিল আসলে বিজেপির ‘লোক দেখানো’ পদক্ষেপ। তিনি অভিযোগ করেন, বিলের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এনআরসি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারে। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, তারা আগেই মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করেছে।

শুধু বক্তব্য নয়, পরিসংখ্যান দিয়েও পাল্টা আক্রমণ করেছে তৃণমূল। দলের দাবি, লোকসভায় বিজেপির মহিলা সাংসদের সংখ্যা যেখানে প্রায় ১৩ শতাংশ, সেখানে তৃণমূলের প্রায় ৪০ শতাংশ সাংসদই মহিলা। এই তথ্য তুলে ধরে তারা প্রশ্ন তুলেছে, তাহলে নারী ক্ষমতায়নের দাবিতে কার অবস্থান বেশি শক্তিশালী? সব মিলিয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ঘিরে এই রাজনৈতিক সংঘাত ভোটের আগে আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার, এই ইস্যু শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।

RELATED Articles