‘পুলিশকে কী বেআইনি কাজে উৎসাহ দিচ্ছেন? কৌস্তভের প্রতি পুলিশের এমন আচরণ মানা যায় না’, লালবাজারকে চরম ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

একটি বই দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি (Kaustav Bagchi)। সেই ঘটনার জেরে মাঝরাতে পুলিশি অভিযান চলে তাঁর বাড়িতে। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ভোরবেলা গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস নেতাকে। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি কম উত্তাল হয়নি। এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনারের (Commissioner of Police) কাছে রিপোর্ট তলব করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Courtk) বিচারপতি। সেই রিপোর্ট নিয়ে আজ, সোমবার এই মামলার শুনানিতে পুলিশকে ভর্ৎসনা করল আদালত।

রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে এদিন বিচারপতি বলেন, “কমিশনারের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়। আপনার সিপি গোটা পুলিশ অভিযানকে যুক্তিগ্রাহ্য বলছেন! গোটা ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়, সবাই সেটা জানে। তাহলে সিপি কি তাঁর পুলিশকে বেআইনি কাজে উৎসাহ দিচ্ছেন? এই ধরনের আচরণ মানতে পারছি না”।

কৌস্তভের বাড়িতে এই পুলিশি অভিযান বা তাঁকে গ্রেফতারের ঘটনায় শাসকদলের মধ্যেও বিভেদ দেখা যায়। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই বিষয়ে বলেছিলেন, “এটা ঠিক হল না। রাজনৈতিক বিষয় ছাত্র-যুবরাই বুঝে নিতে পারত”। বিজেপির সজল ঘোষের গ্রেফতারির পর ওই ওয়ার্ডে পুর নির্বাচনে তৃণমূলের রাজনৈতিক ক্ষতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

এদিন আদালত পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফের হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে পুলিশ কমিশনারকে। এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল থাকবে। আগামী ২০ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

এর আগে হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে কৌস্তভকে সিআরপিএফ নিরাপত্তা দিতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয় যে তা সম্ভব নয়। আদালতের কথায় সিআরপিএফ না হলেও সিআইএসএফ নিরাপত্তা দেওয়া হোক কংগ্রেস নেতাকে। এই মামলায় এই কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে যুক্ত করা হয়েছে।

RELATED Articles