দিনদিন বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। রাজ্যে সংক্রমণের হার বেশ বৃদ্ধির দিকে। প্রত্যেক দিন রাজ্যের হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এই ভাইরাসে। এমন পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও গঙ্গাসাগরের মেলা বন্ধের কোনও নির্দেশ দেন নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার গঙ্গাসাগরের মেলা হবে বলে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টও।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি কেসাং ডোমা ভুটিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ আজ শুক্রবার নির্দেশ দেয় যে সাগরের মেলা হবে তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেলায় নজরদারি চালানোর জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে আদালতের তরফে।
জানা গিয়েছে ওই কমিটিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। সাগরে করোনা বিধি মেনে মেলা হচ্ছে কি না তা নজরে রাখবে ওই কমিটি। আদালতের নির্দেশ, ওই কমিটির সদস্যেরা মেলা শুরুর দিন থেকে শেষ পর্যন্ত পরিদর্শন করবেন। তাঁরা মনে করলে মেলা বন্ধের নির্দেশ দিতে পারেন
করোনা পরিস্থিতিতে গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধের আর্জিতে অভিনন্দন মণ্ডল নামের এক চিকিৎসক হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন। গতকাল, বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে রাজ্য মেলার পক্ষেই সায় দেয়। রাজ্যের তরফে জানানো হয় যে করোনা মোকাবিলায় তারা একাধিক পদক্ষেপ নেবেন।
কিন্তু এর সওয়ালে মামলাকারীরা বার বার দাবী করেন যে তাতে যে সংক্রমণ আটকানো যাবে না। জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী শ্ৰীজীব চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, “মাত্র চার জন সদস্য করোনা আক্রান্ত হওয়ায় চলচ্চিত্র উৎসব বাতিল করা হল। তবে গঙ্গাসাগর মেলা হবে কোন যুক্তিতে”?
এমনকি, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের তরফেও আদালতে জানানো হয় যে পাঁচ লক্ষ জমায়েতের গঙ্গাসাগর মেলা হলে সংক্রমণের আশঙ্কা প্রবল। কোনওভাবেই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। এই মেলা বন্ধের দাবীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেলা বন্ধ হল না।
একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে সংক্রমণের হার যদি বাড়তে থাকে, তাহলে আরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। আর এদিকে গঙ্গাসাগরের মেলা বন্ধ না করার পক্ষ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জেরে সংক্রমণ যে আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য। শেষ পর্যন্ত রাজ্যকে কোন বিপদের মুখে পড়তে হবে, এখন সেটাই দেখার।





