কিছু মাস আগে পর্যন্তও তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর ভয়ে ‘বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত’, এমন প্রবাদও শোনা যায়। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের সেই তাপস মাঝিকেই এবার প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, বৃহস্পতিবার পটাশপুর ১ নম্বর ব্লক অফিসের বাইরে দুপুরের দিকে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাড়শঙ্কর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী-শিক্ষক তাপস মাঝি এদিন ব্লক অফিস থেকে বেরনোর পরই তাঁকে তাড়া করে কিছু লোক। তিনি পালাতে গেলে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে ব্লক অফিসের কাছে আনা হয়। এরপর বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। পরে পুলিশ এসে তাপস মাঝিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
বরাবরই এলাকায় শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত তাপস। শোনা যায়, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়েন তাপস। তৃণমূলের দাবী, বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নাকি বিজেপির হয়ে প্রচারও করেছিলেন।
বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর তাপস বলেন, “এক সময় আমার হাত ধরেই পটাশপুরের বাম দুর্গে ঘাসফুল ফুটেছিল। এলাকার বেশির ভাগ প্রথম সারির তৃণমূল নেতাই আমার হাত ধরে এসেছেন। তবে গত দু’বছর আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। তা-ও আমার ওপর হামলা হল”।
তিনি দাবী করেন, “তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডার লোকজনই আমাকে মারধর করেছে”।
এদিকে পীযুষের দাবী, “চাকরি দেওয়ার নাম করে এবং আমপানের সময় বিপুল পরিমাণে টাকা তুলেছে ও। তৃণমূলের পদে থেকে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র হয়ে প্রচার করেছে। এখন ওঁর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। এলাকার মানুষ ওর উপর ক্ষুব্ধ। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই”।





