আরও বড় গ্যাঁড়াকলে শাহজাহান, তিন বিজেপি কর্মীকে খু’নের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, মামলার কেস ডায়েরি তলব আদালতের

সন্দেশখালি কাণ্ডের জেরে ইতিমধ্যেই সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন শেখ শাহজাহান। তাঁর বিরুদ্ধে আবার রয়েছে তিন বিজেপি কর্মীকে  খু’নের অভিযোগও। এবার সেই মামলার কেস ডায়েরিও তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেদিন এই কেস ডায়েরি পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে ১৮টি আসন জিতেছিল বিজেপি। সেই সময়ই সন্দেশখালির ন্যাজোটে খু’ন হন তিন বিজেপি কর্মী। এরা ছিলেন তপন মণ্ডল, সুকান্ত মণ্ডল ও প্রদীপ মণ্ডল। এই তিন বিজেপি কর্মীকে খু’নের অভিযোগ ওঠে শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার পর গা ঢাকা দেন তিনি। এরপরই শাহজাহানকে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে। এরপরই জানা যায়, আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন শাহজাহান। পরবর্তীতে সিআইডি এই মামলার তদন্ত শুরু করলে চার্জশিট থেকে শাহজাহানের নাম বাদ পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছিল।     

এই তিন বিজেপি কর্মীকে খু’নের ঘটনায় শাহজাহানের বিরুদ্ধে ন্যাজোট থানায় খু’ন ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ ছিল,অভিযোগপত্রে নাম থাকা সত্ত্বেও চার্জশিটে শাহজাহানের কোনও নাম ছিল না। এরপর আবার সন্দেশখালি কাণ্ডের পরও গা ঢাকা দেন শাহজাহান।

এই সন্দেশখালি কাণ্ডের এক শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টকে রাজ্য জানায়, গত ৪ বছরে শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৪৩টি মামলা দায়ের হয়েছে আর এর মধ্যে ৪২টি মামলায় চার্জশিট জারি করা হয়েছে। আদালত প্রশ্ন তোলে ৪২টি মামলার চার্জশিট পেশ করতে ৪ বছর কেন সময় লেগে গেল। এরপরই সন্দেশখালিতে বিজেপি কর্মীদের খু’নের মামলার কেস ডায়েরি তলব করল হাইকোর্ট।

বলে রাখি, গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়ি তল্লাশিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে ইডি। সেই ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন শাহজাহান। ৫৫ দিন ওঁর গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। বর্তমানে সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন শাহজাহান। গত শনিবার সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে আসেন শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগীর ও শাহজাহানের ঘনিষ্ঠরা। জিজ্ঞাসাবাদের পর আলমগীর ও আরও ৩ জনকে আটক করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।    

আরও অন্যান্য খবর