কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে মুখোমুখি তর্কে বসার জন্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আহ্বান এবার প্রত্যাখ্যান করলেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, “চোর আর শিক্ষক তো একসঙ্গে এক ফ্রেমে বসে তর্ক করতে পারে না”।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
গতকাল, সোমবার গঙ্গারামপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেন, বাংলায় নির্বাচনে হেরে গিয়ে বাংলায় প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, “মোদীজির গ্যারান্টি ভাষণ, আর দিদির গ্যারান্টি রেশন। গত তিন বছরে আবাস এবং ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ১০ পয়সা বরাদ্দ করা নিয়েও যদি বিজেপি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারে, তবে রাজনীতির ময়দানে পা রাখব না”।
এরপরই সুকান্তকে আর সঙ্গে মুখোমুখি তর্কে বসার আহ্বান জানান অভিষেক। বলেন, “আমি সুকান্তবাবুকে বলব, আপনার লোকসভা কেন্দ্রে এসে আরেকবার চ্যালেঞ্জটা ছুড়ে দিয়ে গেলাম। আপনি জায়গা ঠিক করুন, সময় ও সঞ্চালক ঠিক করুন, একদিকে আপনি থাকবেন, একদিকে আমি থাকব। এই তিন বছরে আবাস যোজনায় ১০ পয়সার শ্বেতপত্র আর ১০০ দিনেক কাজে ১০ পয়সার হিসাব বিজেপি দিতে পারে আমি রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না”।
কী জবাব দিলেন বিজেপি নেতা?
অভিষেকের এই আহ্বানের এবার পাল্টা জবাব দিলেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বললেন, “বসা তো যায়ই। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিতে বলে, শ্রাস্তার্ধ বা যুক্তির লড়াই সব সময় সমকক্ষ লোকেদের মধ্যে হওয়া উচিত। চোর আর শিক্ষক তো একসঙ্গে এক ফ্রেমে তর্ক করতে পারে না। তাহলে তো শিক্ষকদের মান সম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে”।
প্রসঙ্গত, এর আগেও কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে বারবার মুখ খুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি গিয়ে আন্দোলন থেকে রাজভবনের সামনে ধর্না, সবই করেছেন তিনি। তবে কেন্দ্রের টাকা মেলেনি। গত বছরের ডিসেম্বরে সংসদ অধিবেশনে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার প্রশ্ন করেছিলেন, কেন বাংলায় ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করা হল? কত টাকা বকেয়া রয়েছে কেন্দ্রের?
এই প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়, ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে বাংলায় টাকা পাঠানো বন্ধ করেছে কেন্দ্র। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবী, একুশের বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূল সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ১০০ দিনের টাকা বন্ধ করেছে কেন্দ্র।






