উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করেও বহাল তবিয়তে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি, আদালতের নির্দেশে প্রকাশিত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ তালিকায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে যারা প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে যাদের নিয়িগ করা হয়েছে, গতকাল, মঙ্গলবার তাদের ব্রেকআপ নম্বর-সহ বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। জেলা ভিত্তিক নম্বরের ব্রেক আপ প্রকাশ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে ব্রেকআপ-সহ বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে পর্ষদ। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল জেলা ভিত্তিক ব্রেক আপ-সহ, জাতি ভিত্তিক তথ্য সম্বলিত বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করতে। সেই তালিকা প্রকাশ করল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।

আর সেই তালিকা প্রকাশ হতেই উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেল উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করা সত্ত্বেও ৬ বছর ধরে প্রাথমিকে শিক্ষকতা করছেন প্রার্থী। আবার একজনের কাট অফ মার্কসে দেকগা গিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক স্কোর তাঁর শূন্য, মাধ্যমিকেও ফেল। কিন্তু তিনিও বহাল তবিয়তে শিক্ষকতার চাকরি করে যাচ্ছেন। কীভাবে কেউ উচ্চমাধ্যমিকের স্কোরে শূন্য পেয়েও শিক্ষক হলেন? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিস্তর।  

কেন তালিকায় উচ্চমাধ্যমিক স্কোরে শূন্য এসেছে? সেই প্রশ্নের বিষয়ে এবার জবাব দেওয়ার জন্য কনফিডেন্সিয়াল এজেন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে। পর্ষদের প্রকাশিত ওই তালিকায় শুধুমাত্র এই একটি বিষয় নয়, আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পার্শ্বশিক্ষকদের ভগ্নাংশে নম্বর দেওয়া থেকে শুরু করে ক্যাটেগরি আলাদা করে প্যানেল তৈরি না করা, এমন বেশ কিছু বিষয় নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল।

কীভাবে উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করে বা উচ্চমাধ্যমিকে কাট অফ স্কোর শূন্য নিয়ে প্রাথমিকে নিয়োগ হল, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে ইতিমধ্যেই। প্রশ্নের মুখে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। শিক্ষা পর্ষদের এই তালিকার গরমিল নিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। আর কথায়, প্রাপ্ত নম্বরে অনেক গরমিল রয়েছে। প্যানেল তৈরির ক্ষেত্রেও অনেক নিয়ম মানা হয়নি।

বলে রাখি, এর আগে ২০১৬ সালে প্রাথমিক নিয়োগে অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতে ৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ফের নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে তাদের, এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে এবার গোটা প্যানেল তৈরিতেই গরমিলের অভিযোগ উঠল। এবার কী তাহলে ২০১৬-এর প্রাথমিক নিয়োগের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দেওয়া হবে? সেটাই এখন দেখার।  

RELATED Articles