আর জি কর হাসপাতালে (R G Kar Hospital) বিপুল সংখ্যায় ভর্তি থাকে রোগী। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগীর চিকিৎসা হয় সেখানে। ফলে ৩০০ কেজির বিপুল পরিমাণ হাসপাতাল বর্জ্য তৈরী হয়। এবার অভিযোগ উঠল সেই বর্জ্যের নাকি দুই তৃতীয়াংশই পাচার হয়ে যেত হুগলী (Hooghly) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার (south 24 pargana) বিভিন্ন জায়গায়। কিছু বর্জ্য চলে যেত বাংলাদেশও (Bangladesh)। এমনকি বিক্রি করা হতো খোলা বাজারেও।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই দুর্নীতি তদন্ত করতে নেমে এমনি এক ভয়াবহ চক্রের হদিশ পেয়েছে বলে সূত্রের মারফত জানা যাচ্ছে। গত ছয় মাসে প্রায় এক লক্ষ কেজি ওজনের বেশি বর্জ্য পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিবিআই এর সন্দেহ আর জি কর হাসপাতালের কোন শীর্ষস্থানীয় নেতার সাথে হাত মিলিয়ে শঙ্কর রাউত, মহম্মদ আফজল এবং সিবিআইয়ের হাতে ধৃত আফসার আলি খানের যোগসাজসে ওই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পদার্থ পাচার করা হত।
এর নেপথ্যেও থাকতে পারে সন্দীপ ঘোষ, সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না সিবিআই তদন্তকারীরা। সিবিআই এর সূত্রে প্রচার করা ওই বর্জ্য পদার্থের মধ্যে অধিকাংশ টাই স্যালাইনের বোতল, সিরিঞ্জ, গ্লাভস, টুর্নিকেট ইত্যাদির মতো প্লাস্টিকজাত এমন বর্জ্য যেগুলিকে দিয়ে পুনরায় উপকরণ তৈরি করা যায়। এই বাজারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার বে আইনি কারবার হয়েছে বলে মনে করছেন সিবিআই এর গোয়েন্দারা।
সিবিআই এর তদন্তকারীরা মনে করছেন, হাসপাতাল থেকে বজ্র পদার্থ পাচার করার পর সিরিজ এবং স্যালাইনের বোতল ধুয়ে পরিষ্কার করে নতুন প্যাকেটে ভরে ফের বাজারজাত করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর অধিকাংশটাই পাচার হয়ে যেত বাংলাদেশে। আর প্লাস্টিক গলিয়ে দানা বা গ্র্যানুয়েল বানানো হতো অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করার জন্য। এই প্লাস্টিক গ্র্যানুয়েল এর দাম যেহেতু বাজারের থেকে কম তাই এইগুলি ছোটখাটো খেলনা ও থালা বাটি প্রস্তুত কারো কারখানা গুলি কিনে নিয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার যে বেসরকারি বহুজাতিক সংস্থাটিকে দায়িত্ব দিয়েছে হাসপাতালের সমস্ত বর্জ্য সংগ্রহ করে দা হলদিয়া, উলুবেরিয়া এবং কল্যাণীর প্ল্যান্ট নষ্ট করে দেওয়ার সংস্থা বিগত কয়েক মাসে আর জি কর হাসপাতালের থেকে যে পরিমাণ বজ্র পদার্থ পাওয়া প্রত্যাশিত সেই পরিমাণ বর্জ্য আর জি করের তরফ থেকে পায়নি। এখন সিবিআই এর গোয়েন্দারা বুঝছে সেই পদার্থ কিভাবে পাচার হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কতজন জুনিয়র চিকিৎসক কাজে যোগ দিলেন, মেডিক্যাল কলেজগুলোর থেকে হিসাব চাইল রাজ্য, আন্দোলনরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ?
এমন ভয়াবহ বেআইনি পাচার চক্রের ঘটনায় বিপদে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। এমন কথাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সঞ্জীব বন্দোপাধ্যায়ের কথায় , “চিকিৎসা-বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে সংক্রমণের। বিশেষ করে এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি এবং হেপাটাইটিস-সি সংক্রমণের”।





