ক্যামেরা বন্ধ হলেই রি-পোল! কড়া নজরদারিতে বিধানসভা ভোট, অতিরিক্ত ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোয় কমিশনের বড় বার্তা!

ভোট এলেই বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলে যায় রাস্তা থেকে চায়ের আড্ডা, সর্বত্র একটাই আলোচনা, নির্বাচন। সেই উত্তেজনার মাঝেই এবার বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে জোরদার প্রস্তুতি। ভোট যাতে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে হয়, তা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। তাই শুরু থেকেই গোটা প্রক্রিয়াকে ঘিরে কড়া নজরদারি রাখার ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন স্তরে।

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে বড় সিদ্ধান্ত। ভোটের আগে রাজ্যে আরও ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৪০০ কোম্পানি মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল, তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এই অতিরিক্ত বাহিনী। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৫৫০ কোম্পানি। অর্থাৎ আড়াই লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে, আর দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। তবে শুধু বাহিনী বাড়ানোই নয়, ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রেও একাধিক কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় স্তরে ব্যবহৃত কিছু বাহিনী নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন, যা ভোট পরিচালনায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে।

নির্বাচনের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ বা স্টুডেন্ট পুলিশকে ব্যবহার করা যাবে না, এই নির্দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। শুধু তাই নয়, ভোটের তিন দিন আগে থেকে ভোটের পরের দিন পর্যন্ত তারা ইউনিফর্ম পরে কোনও ডিউটিতেও থাকতে পারবেন না। নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশ কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ফের চমক! নতুন করে রাজনীতিতে ফিরলেন নুসরত জাহান! প্রত্যাখ্যাত করেও, অভিনেত্রীকে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী!

এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, রি-পোল বা পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশ। প্রায় ৩ হাজার ক্যামেরা দিয়ে বুথের ভিতর-বাইরে ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি চলছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যদি কোথাও ক্যামেরা বন্ধ পাওয়া যায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকে দেওয়া হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অতীতে এমন নজির থাকায় এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। সব মিলিয়ে, কঠোর নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তার বলয়ে এবার বাংলার ভোট হতে চলেছে অনেকটাই আলাদা মাত্রায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles