দোরগোড়ায় এসে হাজির বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। পাড়ার অলিতে গলিতে শুরু হয়েছে মাতৃবন্দনার প্রস্তুতি। এই করোনা আবহেই আবার নতুন করে সেজে উঠেছে শহর, আনন্দমুখর হয়েছে বাঙালি। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতি যাতে ভয়ংকর রূপ না ধারণ করা, তার জন্য নতুন গাইডলাইন দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এই নির্দেশে বলা হয়েছে যে কনটেন্টমেন্ট জোনগুলিতে প্রকাশ্যে কোনও পুজো উৎসব করা যাবে না।
কেন্দ্রের এই নতুন নির্দেশ অনুযায়ী কনটেন্টমেন্ট জোনের বাসিন্দাদের বাড়িতে থেকেই পালন করতে হবে পুজো উৎসব। যে সমস্ত জায়গাতে ঝুঁকি বেশি, সেসব যায় জায়গায় মানুষদের উৎসবের দিনগুলিতে বাড়িতে থাকাই বাঞ্ছনীয়, এমন কথা জানানো হয় কেন্দ্রের তরফ থেকে। তাছাড়া, পুজোর সময় যাতে সঠিকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পরিচালনা করতে হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কোনও জমায়েত। ভিড়ের জায়গায়, মণ্ডপের ভিতর ঘন ঘন স্যানিটাইজেশন যেন নিয়ম মেনে কড়া হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। থার্মাল স্ক্রিনিং ও ফ্লোর মার্কিংয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, এমন নির্দেশও জারি করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। বিসর্জনে মাস্ক পরেই অংশগ্রহন করতে হবে, মানতে হবে দূরত্ববিধি। উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে জমায়েতেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, তাও নজরে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে গণেশ পুজো ও কেরলে ওনামের পর লাফ দিয়ে সেসব রাজ্যে বেড়েছে করোনার গ্রাফ। বাংলার ক্ষেত্রেও যাতে সেই একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই কথা মাথায় রেখেই দুর্গাপুজো নিয়ে এমন গাইডলাইন জারি করে কেন্দ্র। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২লাখ ৭৭হাজার ০৪৯ এবং মৃতের সংখ্যা ৫৩১৮। মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যার দিক দিয়ে প্রথম দশটি রাজ্যের মধ্যেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। একই সঙ্গে দেশের যে ২৫টি জেলায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যেও রয়েছে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণা। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সংক্রমণ ফের বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সবদিক থেকে বিচার করেই বাংলায় পুজোর ক্ষেত্রে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র।





