যোগী আদিত্যনাথ (Yogi adityanath) শাসিত উত্তর প্রদেশে ঘটে যাওয়া নারকীয় ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছিল ভারত। দেশজুড়ে চলা লাগাতার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল দেশ। নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে গেছিল প্রাায় সমস্ত বিরোধীদলের নেতা নেত্রীরাই। ‘পেড মিডিয়া’ ট্যাগ ঝেড়ে কোমর বেঁধে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে পথে নেমেছিল সংবাদমাধ্যমও (media)।
প্রথমদিন ঢুকতে না পারলেও দ্বিতীয় দিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢড়া (Rahul and Priyanka Gandhi)। ১৩০ কোটির ভারতবর্ষে এটিই প্রথম ধর্ষণের ঘটনা এমনটা ছিল। কিন্তু যেটা ছিল সেটা হল বিরোধী রাজ্যে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনা। আর তাই আলো পড়ল একটু বেশি। যে কংগ্রেস হাইকমান্ড ছুটে গিয়েছিল হাথরসের নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াবার জন্য সেই নেতা নেত্রীরই এবারদেখা নেই ঘরের মেয়ের নির্যাতিত হওয়ার পর।
হাথরসের মতই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল রাজস্থানের বারমের (Rajasthan Barmer)। পরিবারের অজান্তেই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ১৫ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণের (Gang Rape) অভিযোগ উঠেল। রাস্তার ধার থেকে উদ্ধার হওয়া ধর্ষিতা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
বাবা আর মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিল সরপঞ্জ নির্বাচনে ভোট দিতে। সেই সময় বারমেরে নিজের বাড়িতে একাই ছিল ১৫ বছরের নাবালিকা। দুই যুবক বাইকে করে এসে চড়াও হত তাদের বাড়িতে। কিছুটা জোর করেই ১৫ বছরের নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। প্রথমে এক যুবক যখন নির্যাতিতা তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছিল তখন অন্যজন সেই ঘটনার ভিডিও শ্যুট করছিল। পরবর্তীকালে অন্য যুবক ধর্ষণ করে। তারও ভিডিওগ্রাফি করা হয়। তারপর তাঁরা মেয়েটিকে রাস্তার ধারে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়।
বাড়ি ফিরে বাবা মা নাবালিকাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করে। কিন্তু নাবালিকার কোনও সন্ধান না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। মধ্যরাতে স্থানীয় একটি রাস্তার ধার থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছিল নির্যাতিতাকে পুলিশ যখন উদ্ধার করে তখন সে বেঁহুশ ছিল। সারা গায়ে ছিল আঘাতের দাগ। নির্যাতিতা তরুণীর সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে নাবালিকা নির্যাতিতা। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
বারমের জেলা শাসকের তরফে উপযুক্ত তদন্ত আর দোষীদের গ্রেফতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ নির্যাতিতা তরুণীর সঙ্গে কথাও বলেছেন। পুলিশ সূত্রের খবর তরুণী অভিযুক্ত দুই যুবককে সে চেনে না বলেই দাবি করেছে। অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বার করে শাস্তি দেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কংগ্রেস শাসিত রাজ্য রাজস্থানের এই ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে রীতিমত মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে কংগ্রেস। মুখ খোলেননি সেই রাজ্যের কোনও নেতা নেত্রীই।





