আগামী নির্বাচনে কমবে রাজ্য পুলিশের ক্ষমতা, বাড়বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিপত্তি, কেন্দ্রের প্রস্তাবে অরাজি নবান্ন

কেন্দ্র বনাম রাজ্যের সংঘাত ফের একবার তুঙ্গে উঠল বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েই চলেছে। বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বিজেপি চাইছে বাংলা দখল করতে আর ঘাসফুল শিবির চাইছে ক্ষমতা ধরে রাখতে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার চেয়েছিল নির্বাচনের সময় রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে। এই প্রস্তাব এবার রাজ্য সরকার পত্রপাঠ খারিজ করে দিল। অন্যদিকে বিজেপি কিন্তু চাইছে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ানো হোক নির্বাচন পরিস্থিতিতে তবে তৃণমূল সরকার তাতে কোনো ভাবেই রাজী নয়। এর ফলে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ যে, রাজ্যে ফের আরেকবার তৃণমূল বনাম বিজেপির বিরোধ তুঙ্গে উঠতে চলেছে।

সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে কেন্দ্র চাইছে, কমান্ডারদের হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকুক রাজ্য প্রশাসন নির্বাচনের সময় বিশেষ সুবিধা লাভ করতে পারবে না।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে প্রস্তাবও দিয়েছিল। যদিও রাজ্য সেই প্রস্তাব কোনভাবেই মেনে নেয়নি এবং নিজেদের আপত্তির কথা কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই ব্যবস্থা নিতে বারংবার অমিত শাহ কে আর্জি জানিয়ে ছিল এমনকি রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

যখন নির্বাচন হয় তখন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের একটি সমন্বয় মূলক সম্পর্ক স্থাপন করতে হয় যাতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনা করা যায়। একটি শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে সেই রকম কিন্তু রাজ্য পুলিশের ও দরকার। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী যেহেতু এই রাজ্যের এলাকা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল থাকে তাই তারা রাজ্য পুলিশের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। আর কেন্দ্র এই নির্ভরতা কমানোর জন্যই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্যকে।

কেন্দ্র জানিয়েছিল যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধি কী হবে, তা আর রাজ্য পুলিশের উপর কোনওভাবেই নির্ভর করবে না। বরং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দলনেতাদের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’ হবে। কিন্তু রাজ্য এই প্রস্তাবে কোনো ভাবেই রাজী নয়। যদিও এখনও কেন্দ্র থেকে এই বিষয়ে নতুন করে কিছু জানানো হয়নি তবে ভোটের আগেই যে রাজ্য সরকার বনাম কেন্দ্র সরকারের সংঘাত বেঁধেছে তা আরেকবার স্পষ্ট হয়ে গেল এই ঘটনার মাধ্যমে।

RELATED Articles