বকেয়া ডিএ (due DA) মেটাতেই হবে রাজ্যকে, এই দাবী নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশ। এবার এই ডিএ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বারাসাতের তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjit Chakraborty)। তিনি ব্যাখ্যা করলেন কেন বকেয়া ডিএ মেটাতে পারছে না রাজ্য। তাঁর কথায়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakkhir Bhandarc) প্রকল্পের জন্য অনেক টাকা খরচ হওয়ার জেরেই ডিএ দেওয়া যাচ্ছে না।
গতকাল, শুক্রবার মধ্যমগ্রামে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচিতে গিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেন বারাসাতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “কেন্দ্র সরকার যে শতাংশ ডিএ দিচ্ছি আমরা দিতে পারছি না। আমরা হয়ত অন্য জায়গায় দিচ্ছি। আসলে অনেকগুলো প্রকল্প আছে সেই খাতে টাকা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এদিকে কেন্দ্র সরকার টাকা দেয় না তার জন্য নিজেদের থেকে টাকা ওই খাতে ব্যবহার করতে হচ্ছে”।
এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখন প্রত্যেকের বাড়ি যেতে হচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা লাগছে। কেন্দ্র যেগুলো দেয় না, আমরা সেই প্রকল্পের পরিষেবাও মানুষের কাছে পৌঁছে দিই। সেই কারণে বাজেটের বিপুল অঙ্কের টাকা সেইদিকে চলে যাচ্ছে। তাই আমরাা ডিএ-র পুরোটা দিতে পারছি না”।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ৩ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাতে মোটেই খুশি নন সরকারি কর্মচারীরা। বকেয়া ডিএ রাজ্যকে মেটাতেই হবে, এই দাবীতে অনড় তারা। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের এও দাবী যে ডিএ বাড়ানো হলেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের থেকে তার ফারাক অনেকটাই।
কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিএ নিয়ে বলেছিলেন যে তাঁর সাধ থাকলেও সাধ্য নেই ডিএ বাড়ানোর। যদিও সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের দাবী, সরকারের টাকা আছে কিন্তু তাও ডিএ দেওয়া হচ্ছে না তাদের। আগামী ১৫ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
এদিনের এই সভায় শুধু ডিএ নয়, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন চিরঞ্জিত। তাঁর কথায়, “পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন, মানুষ উন্নয়ন দেখেছে, ১০০ শতাংশ আশাবাদী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। এলাকা ঘুরে তিনি বলেন এই অঞ্চনে কিছু করতেই হবে না বিধায়ককে এমনিতেই এইখানে জিতে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ, যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে তা আগে কোনদিন ভারতবর্ষের কোথাও দেখেনি, উন্নয়নই একমাত্র জায়গা। রাস্তা কী হয়েছে,আলাদা করে প্রচার কোনটাই প্রয়োজন নেই যদি উন্নয়ন হয়”।





