‘এত পচা লোকজন দলে, কারা এদের দলে ঢোকাচ্ছে, নাম সামনে আনুক উপরমহল’, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দলের শীর্ষনেতৃত্বদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মদন

নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam) নিয়ে এখন গোটা রাজ্য উত্তাল। একের পর এক তৃণমূল নেতাদের নাম সামনে আসছে এই দুর্নীতিতে। চলছে একের পর এক গ্রেফতারি। এবার এই নিয়ে দলের শীর্ষনেতৃত্বদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। এসব নেতাদের কে বা কারা দলে ঢোকাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গত বছর জুলাইয়ের শেষের দিকে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর থেকে একে একে গ্রেফতার হয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য, সুবীরেশ ভট্টাচার্য শান্তিপ্রসাদ সিনহা থেকে শুরু করে শিক্ষা দফতরের একাধিক নেতা। সম্প্রতি এই দুর্নীতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে হুগলির তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষকে।

মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলও সিবিআইয়ের হেফাজতে। তিনি দাবী করেছিলেন যে এই দুর্নীতিতে জড়িত রয়েছেন কুন্তল। আবার কুন্তলের দাবী, নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত টাকা রয়েছে গোপাল দলপতি ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। এর জেরে একের পর এক নাম উঠেই আসছে এই দুর্নীতিতে।

এবার এই নিয়েই সরব হলেন মদন মিত্র। এই সমস্ত তৃণমূল নেতাদের নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “কুন্তলকে দলের দায়িত্বের চিঠি কে দিয়েছে? কার নির্দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে? একজন নেতা তো বলুক! তৃণমূল করেন, না করেন না! তাহলে আমরা পার্টির ছেলেদের বলতে পারি! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে এমন চলবে! এটা মানা যাচ্ছে না। যে সব নাম উঠে আসছে তৃণমূল করে বলে, এত পচা লোকজন তৃণমূল করে? ছিঃ…কারা এদের নেতা? কে ঢোকাচ্ছে? এটা খোঁজা হোক। কারা তৃণমূল করছে? একটা মিটিং ডাকা হোক। ছিঃ”।

মদনের কথায়, “কল্যাণ, রত্না নাগ, সুদীপ্ত, এদের হুগলির নেতা বলে চিনি। এর বাইরে কারা আছে তা তো জানি না। দলের মুখপাত্ররা তাহলে সেসব জানাক। তৃণমূল করলে বলুক আর না করলে সেটাও বলে দিক। এই সমস্ত নেতাদের কারা সূচের মতো দলে ঢোকাচ্ছে, সেটা জানাল উপরমহল। তাহলেই তো হয়”।

তৃণমূল নেতার এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তোপ দাগতে ছাড়ে নি বিরোধী মহল। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার কথায়, “এখন তো সব পরিষ্কার। ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। মদন মিত্র যে প্রশ্ন করছেন যে কারা ঢুকিয়েছে। গোপাল দলপতি নয়, মানুষ এই দুর্নীতির আসল দলপতিকে দেখতে চাইছে। মদন মিত্রের কিছু বলার থাকলে আসল জায়গায় বলুক, আস, দুর্নীতির কেন্দ্রটা কোথায়”। তবে মদন মিত্রের মতো এমন প্রবীণ নেতার এহেন মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি তৃণমূলের তরফে।

RELATED Articles