আর জি করের ঘটনার পরও কমছে না তাণ্ডব! দৌরাত্ম্য বাড়ছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের! গত ২৩ দিনে একাধিক বড় বড় অভিযোগ

আর জি করের ডাক্তার পড়ুয়া ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের (RG Kar Doctor’s Death Incident) অভিযোগ উঠেছে সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়। ৯ই অগস্টের পর কেটে গিয়েছে ২৩ দিন। বিচার মেলেনি। তবে দৌরাত্ম্য কমেনি সিভিক ভলান্টিয়ারদের। প্রকাশ্যে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। মাত্র ২৩ দিনেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে মিলেছে একাধিক বড় অভিযোগ।

১০ই অগস্ট- কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তেজনার মাঝেই শোরগোল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। ঘটনার পরদিনই মধ্যরাতে মত্ত অবস্থায় মহিলা চিকিৎসককে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। এমনকি, আর জি করের ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মহিলা চিকিৎসককে তিনি শাসানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনার পর ভাতার থানায় বিক্ষোভ দেখান চিকিৎসকরা। ডেপুটেশন জমা দেন যার প্রেক্ষিতে পুলিশ ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে।

১৩ই অগস্ট- হাবড়ায় কর্মরত অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম সুমিত অধিকারী। বাবা-মাকে মারধর করে জোর করে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠল এই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি হাবড়া থানার শ্রীনগর এলাকার। সিভিক ভলান্টিয়ার ছেলে সহ দুই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মিলি অধিকারী নামে এক বৃদ্ধা হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্ত শুরু হয়েছে।

২৯শে অগস্ট- এদিন ব্রাউন সুগার-সহ এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে পাকড়াও করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়িতে। অভিযুক্ত কিশোর রায় বাসে করে জলপাইগুড়ি থেকে ফিরছিলেন। আচমকাই বাস থেকে নেমে মাদক সেবন করছিলেন ওই যুবক। প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখে ওই যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করে স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় জলপাইগুড়ির কোতুয়ালি থানায়। অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

৩১শে অগস্ট- আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে এদিন রাতে অবস্থানে বসেছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, ভোররাতে মত্ত অবস্থায় এক সিভিক ভলান্টিয়ার বাইক নিয়ে ব্যারিকেডে ধাক্কা মারেন। পড়ুয়াদের অভিযোগ, কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী ওই ভলান্টিয়ারকে ছেড়ে দেন। প্রতিবাদে ওই পুলিশকর্মীকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন পড়ুয়ারা। পরবর্তীতে এফআইআর দায়ের পর পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় বি টি রোড। চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। তবে পরে সেই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। 

সিভিক ভলান্টিয়ারদের এমন নানান কীর্তিতে বিরক্ত নাগরিক সমাজ। প্রশ্ন উঠছে ঢের। পুলিশের মতো সক্রিয় ও নিয়মনিষ্ঠ ফোর্সে কীভাবে এমন বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা হয়? আদৌ কী আবেদনকারীদের পটভূমি খতিয়ে দেখা হয়? পরীক্ষা নেওয়া হয়? নাকি তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা তাদের কর্মীদের সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগ করছেন? প্রশ্ন তুলছেন আমজনতা!

RELATED Articles