ওড়িশার বালেশ্বরে করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা গোটা দেশকে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বাংলা থেকেও মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের। এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ, মঙ্গলবার কাকদ্বীপে যান ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। কিন্তু সেখানে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাঁকে বাধা দেয় তৃণমূল, এমনই অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বচসা-হাতাহাতিতে জোড়ায় তৃণমূল-আইএসএফ।
করমণ্ডল ট্রেন দুর্ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। আহত শতাধিক। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন শাসক-বিরোধী দলের নেতারা। মঙ্গলবার কাকদ্বীপ ব্লকের মধুসূদনপুর এলাকা থেকে ৫ জন মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। কিন্তু বিধায়ক কাকদ্বীপের মধুসূদনপুর এলাকায় পৌঁছলে আইএসএফ নেতাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গ্রামে ঢোকার মুখে নওশাদের সামনেই তুমুল সংঘর্ষ হয় আইএস-তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় আইএসএফের কাকদ্বীপ ব্লক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মোল্লার কপাল ফেটেছে। তাঁকে কুলপি ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর, এদিন নওশাদ এলাকায় ঢুকতেই তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে হাতাহাতি চলে। ঘটনায় দু’পক্ষই দু’পক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হারউড পয়েন্ট পোস্টাল থানার পুলিশ।
এদিন পুলিশের হস্তক্ষেপে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন নওশাদ সিদ্দিকি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেন ভাঙড়ের বিধায়ক। তিনি বলেন, “মৃত্যু নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। এই মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় যারা মারা গিয়েছে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। আমি যখন এলাকায় পৌঁছই তখন বেশ কিছু এলাকার মাতব্বররা ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল। এই নিয়ে আমাদের কর্মীদের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরবর্তীকালে সেই সমস্যা মিটে গিয়েছে”।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের নেতা বসির চৌধুরী বলেন, “আইএসএফের পক্ষ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আইএসএফের দলীয় পতাকা নিয়ে মৃতের বাড়ি বাড়ি ঘুরছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। সেই সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত সানোয়ার হোসেন মোল্লার ভাই বলেন, দলীয় পতাকা নিয়ে কেন এসেছেন? তখন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে থাকা বহিরাগত বেশ কয়েকজন মৃতের পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। এই খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে আমরা পৌঁছই এবং মৃতের পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলি”।





