স্বাধীনতার অনুষ্ঠান শেষে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এতেই জোর জল্পনা শুরু বঙ্গ রাজনীতিতে। মহামারীর জেরে কাটছাঁট হয়েছে রেড রোডের চিরাচরিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। আর সেই অনুষ্ঠান শেষেই রাজভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে কাটিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। রাজভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় ধনকড় ও মমতার মধ্যে। দুই প্রশাসনিক প্রধানের মধ্যে আলাপচারিতায় জল্পনা ছড়িয়েছে। তাহলে কি সংঘাত শেষ হল?
শনিবার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৯.৪৫ নাগাদ রেড রোডে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমেই স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে তবে মঞ্চে ওঠেন। তাঁকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেন কলকাতা পুলিশের অফিসাররা। এরপর ১০টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর কলকাতা পুলিশের সংক্ষিপ্ত কুচকাওয়াজ পর্ব। তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা আবহে মাত্র ৪টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয় রাজ্য সরকারের তরফে। ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ২৫ জন কোভিড যোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই রেড রোডে নেতাজি মূর্তি এবং পুলিশ মেমোরিয়ালে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে তিনি সোজা চলে যান রাজভবনে।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে এটি নেহাতই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকার। রাজভবন সূত্রে অবশ্য দাবি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় দুই প্রশাসনিক প্রধানের মধ্যে। সম্প্রতি একের পর ইস্যুতে রাজভবন-নবান্ন সংঘাত চরমে। করোনা মোকাবিলা থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র, রাজনৈতিক হিংসা, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সব কিছু বিষয়েই রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেছেন জগদীপ ধনকড়। পাল্টা রাজ্যের মন্ত্রী-আধিকারিকরাও জবাব দিয়েছেন রাজ্যপালের অভিযোগের।
এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজভবনে চা-চক্রের আয়োজন করেন রাজ্যপাল। সেখানে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত মুখ্যমন্ত্রীও। তবে জানা গিয়েছে, সন্ধেবেলা অন্য কাজ থাকায় সকালেই রাজভবনে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী।





