মাঘ মাসে এসে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। চলতি মরশুমে বরফ-ঠান্ডা অনুভূতির মতো শীতের উপস্থিতি তবে খুব বেশি চোখে পড়েনি। রাতের দিকে কিছুটা শীত অনুভূত হলেও দিনের বেলায় গরম অনুভূতির আধিক্য বেড়েছে। বিশেষত, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সকালে কুয়াশা থাকলেও দিনের বেলায় তাপমাত্রার উত্থান ঘটছে। পরিবর্তিত আবহাওয়ার ফলে সঙ্গতিপূর্ণ ঠান্ডা হাওয়ার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা শীতপ্রেমীদের কাছে একটু অস্বস্তিকর।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, শীতের প্রকোপে এই মুহূর্তে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। বরং তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে এবং আগামী দিনগুলিতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে। গত ৪৮ ঘণ্টায় এর লক্ষণ দেখা গেছে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে রাজ্যে উত্তুরে হাওয়ার প্রবাহ আটকে গিয়েছে, ফলে শীতের আগমন কপাল থেকে কিছুটা সরে গিয়েছে। বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আপাতত কম, তবে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে তাপমাত্রা আরও বাড়বে এবং কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্যে আরও পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ঢুকতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়লেও সকালে কুয়াশার কারণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া এবং পুরুলিয়ায়। বিশেষত, সকালে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে ঘন কুয়াশা থাকবে এবং দিনের প্রথমভাগে চলাচলে সমস্যা হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুকনো থাকবে। তবে দার্জিলিং ও কালিম্পঙের পার্বত্য অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে, ফলে এসব অঞ্চলে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে, যা চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করবে।
আরও পড়ুনঃ কমলো গ্যাসের দাম! বাজেটের আগে রান্নার গ্যাসের দামে স্বস্তির খবর
শুক্রবার কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১.২°C, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫.৬°C বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৬°C, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৬°C বেশি। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৭৩ শতাংশ। আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী পাঁচ দিন তাপমাত্রায় কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন হবে না, তবে কুয়াশা এবং পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাব থাকতে পারে।





