২০২৫ সালের বাজেট! আয়কর স্ল্যাবে বড় পরিবর্তন, মধ্যবিত্তদের জন্য খুশির খবর!

২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট দেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাজেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আয়কর কাঠামোতে পরিবর্তন। বর্তমান বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য আয়কর স্ল্যাবের নতুন ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সুবিধাজনক। এর ফলে, কম আয়ের ব্যক্তিদের উপর ট্যাক্সের চাপ কমবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। চলুন, আগের এবং বর্তমান আয়কর স্ল্যাবের মধ্যে কি পার্থক্য হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য আয়কর স্ল্যাব ছিল কিছুটা ভিন্ন। সেই স্ল্যাব অনুযায়ী, ৩ লাখ টাকার নিচে কোনো কর ছিল না, তবে ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকার মধ্যে ৫% কর, ৭ লাখ থেকে ১০ লাখের মধ্যে ১০%, ১০ লাখ থেকে ১২ লাখের মধ্যে ১৫%, ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখের মধ্যে ২০%, এবং ১৫ লাখ টাকার উপরে আয়ের ওপর ৩০% ট্যাক্স ধার্য ছিল। তাছাড়া, বেতনভোগীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫,০০০ টাকা করা হয়েছিল, যা কিছুটা করের চাপ কমাতে সহায়ক ছিল।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর স্ল্যাবের কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের ৩ লাখ টাকার করমুক্ত সীমা বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে, ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যে আয়ের ওপর ৫% কর, ৬ লাখ থেকে ৯ লাখ টাকার মধ্যে ১০%, ৯ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকার মধ্যে ১৫%, ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে ২০%, এবং ১৫ লাখ টাকার উপরে ৩০% ট্যাক্স থাকবে। তাছাড়া, বেতনভোগীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়িয়ে ৭৫,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা তাদের করযোগ্য আয় কমাবে।

বর্তমান বাজেটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো করমুক্ত সীমার বৃদ্ধি এবং ট্যাক্সের হার কমানো। ৩ লাখ টাকার পরিবর্তে ৬ লাখ টাকার আয় পর্যন্ত করমুক্ত থাকছে, যা মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এক বড় স্বস্তি। এছাড়া, ট্যাক্সের হারও কিছুটা কমানো হয়েছে। ৫% থেকে ১০% এবং ১০% থেকে ১৫% করহার কমিয়ে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বেতনভোগীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ৭৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা তাদের আয়কর পরিশোধের চাপ কমাবে।

আরও পড়ুনঃ মাঘের মাঝামাঝি চড়বে পারদ! কুয়াশায় রাজ্য জুড়ে সতর্কতা জারি!

২০২৫ সালের বাজেটে আয়কর কাঠামোতে আনা পরিবর্তনগুলো সাধারণ মানুষ ও করদাতাদের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক। বিশেষত, ৩ লাখ টাকার বদলে ৬ লাখ টাকার আয় পর্যন্ত করমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত এবং স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়ানোর ফলে বেতনভোগী মানুষদের জন্য এক বড় সুবিধা এসেছে। এগুলি শুধু করদাতাদের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পরিবর্তনগুলি জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে এবং আরও অনেক মানুষের জন্য কর পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles