গোটা পৌষমাসে জুড়ে সেভাবে ঠাণ্ডা উপভোগ করেনি বঙ্গবাসী। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বঙ্গ থেকে গায়েব হয়ে যায় শীত। ফলে বড়দিন হোক বা বর্ষবরণ, সবটাই কেটেছে নরমে-গরমেই। শীতবিলাসীরা যখন ভেবেই নিয়েছিলেন যে এই বছর আর শীতটা গায়ে মাখা হল না, তখনই ঠিক আবহাওয়ার ভোলবদল। ফিরে এল ঠাণ্ডা। বঙ্গবাসীর দুয়ারে শীত।
কেমন ঠাণ্ডা পড়ল বাংলায়?
পৌষমাসের শেষের দিকে এসেই বাংলায় ফিরল শীত। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসই সত্যি হল। পৌষ সংক্রান্তির আগেই জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়ল রাজ্যে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৫ ডিগ্রি পারদ নেমেছে বঙ্গে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ডিগ্রি কম। কলকাতায় তাপমাত্রা ১২. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতেও ৮-১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে তাপমাত্রা।
শুধুমাত্র দক্ষিণবঙ্গই নয়, হাড় কাঁপানো শীতে জুবুথুবু উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ। জলপাইগুড়িতে দশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে গিয়েছে তাপমাত্রা। জলপাইগুড়িবাসী গত প্রায় দিন ছয়েক ধরে সূর্যের মুখ দেখেননি। হিমেল বাতাস বইছে। দৃশ্যমানতা প্রায় নেই।
কতদিন থাকবে এমন ঠাণ্ডা?
এই শীতের আয়ু খুব বেশিদিন নয় বলেই জানাল হাওয়া অফিস। পৌষ সংক্রান্তি কাটলেই ফের হাওয়া বদল হবে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে আগামী সপ্তাহেই বাংলার বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণেই আগামী ১৬-১৮ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের পাঁচ জেলা ও দক্ষিণবঙ্গে উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানাল হাওয়া অফিস। এই সময় কলকাতাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মেঘ ঢুকলেই ফের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের সব জায়গাতেই কমবেশি কুয়াশা দেখা যাবে। উত্তরের জেলাগুলিতে ঘন কুয়াশা থাকবে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে আপাতত পিঠে-পার্বণ উৎসব পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই শীত উপভোগ করতে পারবে বঙ্গবাসী।





