মমতারূপে দেবীদুর্গা, এমন নিদর্শন চোখে পড়েছে খাস কলকাতাতেই। বাগুইহাটির এক ক্লাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের আদলে দেবী দুর্গার মূর্তি বানানোর খবর আগেই মিলেছে। এ নিয়ে জলঘোলাও কম হয়নি।
বিজেপির তরফে এই নিয়ে বিরোধিতাও করা হয়। সেই মূর্তি তৈরি বন্ধ করার দাবীও তোলা হয়। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলেছে। আর এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগ উঠল রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তথা কলাকাতার পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি, রাজ্য বিজেপি যুবমোর্চার সহ সভাপতি তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন যাতে ফিরহাদ হাকিমকে দেবী দুর্গা বন্দনা মন্ত্র বলতে শোনা যাচ্ছে কিন্তু কিছুটা বিকৃতভাবেই। তিনি উচ্চারণ করেন, “যা দেবী সর্বভূতেষু, মমতা রূপেণ সংস্থিতা’। অর্থাৎ এখানে তিনি দেবী দুর্গার জায়গায় বসালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
আর এই নিয়েই শুরু রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মতে, এমন মন্ত্র উচ্চারণ করে সদতে হিন্দু ধর্মের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী। তিনি এও বলেন, “যে দুর্গাপুজোর বিসর্জন বন্ধ করে দেয়, যে দুর্গাপুজোর অনুমতি দেয় না, যার অনুপ্রেরণায় ৪০০ বছরের পুজো বন্ধ হয়, যার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কয়েক হাজার মানুষ এখনো ঘরছাড়া এবং কয়েকশো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তাকে দেবী দুর্গা কেউ মনে করেন না”।
ফিরহাদের এমন মন্ত্র উচ্চারণের কারণে নেটিজেনদেরও ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অনেকাংশেরই দাবী, নিজের ধর্মের কোনও উৎসব বা পরবে কি ফিরহাদ হাকিম এমনটা করতে পারতেন? নাকি হজরত মহম্মদের সঙ্গে তিনি মমতার তুলনা টানতে পারতেন? নেটিজেনদের মতে, হিন্দু ধর্ম বলেই কী এই ধর্মকে এমন মজা করা যায়?
এর থেকে আরও প্রশ্ন উঠে আসে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এত তোষণ কেন? তাঁর হয়ে ভোটের প্রচার তিনি করতেই পারেন। তাঁর দলের সদস্যও তিনি হতে পারেন, কিন্তু কোনওভাবেই কি দেবী দুর্গার সঙ্গে মমতার তুলনা টানা যায়? এটা কি বাড়াবাড়ি নয়?
ফিরহাদ হাকিমের এই বক্তব্যের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ যাতে এই ঘটনার পদক্ষেপ নেয়, এমন আবেদনও জানানো হয়েছে। তবে বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মতে, কলকাতা তথা রাজ্যের পুলিশ এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করবে না। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমের বালির দেশের কাউকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করত। কিন্তু হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগলেও পুলিশ নিশ্চুপই থাকবে।





