রাজ্য

একশো দিনের কাজেও দুর্নীতি! একাধিক কাজের নামে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হাইকোর্টে মামলা দায়ের গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দমকলের পর এবার একশো দিনের কাজেও দুর্নীতির ঘটনা সামনে এল। মালদহের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। কলকাতা হাইকোর্টে এই নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে খবর।

এর আগেও মালদহের আরও দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে এই একই অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই তালিকায় কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতও যোগ হল। অভিযোগ উঠেছে যে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের শাসকদল পরিচালিত কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা মিলে প্রায় দশ কোটি টাকা তছরুপ করেছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আক্তারি খাতুন, উপ প্রধান মহম্মদ নুর আজম ও পঞ্চায়েত সদস্য এবং সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। গ্রামবাসীরা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন তাদের বিরুদ্ধে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, একশো দিনের প্রকল্পে পুকুর খনন, কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণ, উদ্যান পালন, ক্যানেল সংস্কার, গাডওয়াল নির্মাণ, রাস্তায় মাটি ভরাট, মাদ্রাসা প্রাঙ্গন ভরাট, কংক্রিটের রাস্তা তৈরি, এমন একাধিক কাজের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে গ্রাম পঞ্চায়েতের নানান সদস্য।

এখানেই শেষ নয়। গ্রামবাসীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে জমিতে কলা চাষের নাম করে ভুয়ো বোর্ড লাগিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য ও সুপারভাইজাররা লক্ষ লক্ষ আত্মসাৎ করেছে। এছাড়াও, রাতের অন্ধকারে জেসিবি মেশিন দিয়ে পুকুর কেটে ভুয়ো মাস্টার রোল বানিয়েও লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টে মামলাকারী মহম্মদ সেখিল হোসেন বলেন, “কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটা বুথে একশো দিন প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়েছে। খাতায়-কলমে কাজ হয়েছে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। এতে পুরোপুরিভাবে জড়িয়ে আছে পঞ্চায়েত প্রধান, উপ প্রধান ও পঞ্চায়েত কর্মীরা”।

যদিও এই অভিযোগ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন পঞ্চায়েত প্রধান আক্তারি খাতুন ও উপপ্রধান মহম্মদ নুর আজম। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী আবদুল রশিদ এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পাল্টা দাবী, অভিযোগকারীরা নাকি টাকা দাবী করেছিল। সেই টাকা দেওয়া হয়নি বলেই এই মিথ্যে মামলা সাজানো হয়েছে।

Back to top button
%d bloggers like this: